বিয়ের আগেই জন্ম, সদ্যোজাতকে খুনের চেষ্টা মায়ের

99

রায়গঞ্জ: প্রসবের পর সদ্যোজাত কন্যা সন্তানকে গলা টিপে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে। আয়া নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চেঁচামেচিতে ছুটে আসনে নিরাপত্তারক্ষীরা। এরপর থেকে ওই প্রসূতিকে পুলিশি পাহারায় পোস্ট নেটাল বিভাগে রাখা হয়েছে।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানার বারোদুয়ারির বাসিন্দা ১৬ বছরের কিশোরী শনিবার বিকেলে পেটে ব্যথা নিয়ে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকের সন্দেহ হওয়ায় ইউএসজি করার পরামর্শ দেন। সন্ধ্যায় জানা যায়, কিশোরী গর্ভবতী। সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হয় প্রসূতি বিভাগে। গতকাল রাতে প্রসব যন্ত্রণা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় লেবার রুমে। সেখানেই কন্যা সন্তান প্রসব করেন ওই কিশোরী। কিন্তু বিয়ে হওয়ার আগেই সন্তানের জন্ম দেওয়ায় বিপাকে পড়েন ওই কিশোরী। অবাঞ্ছিত সন্তানের হাত থেকে রেহাই পেতে সদ্যোজাতকে গলা টিপে খুন করা চেষ্টা করে মা। যদিও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতায় বরাতজোরে বেঁচে যায় সন্তানটি।

- Advertisement -

কিশোরীর বক্তব্য, ‘আমারতো বিয়ে হয়নি, এই সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাব। তাই কেউ যদি সন্তান নেয় তাকে দিয়ে আমি চলে যাব।’ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ মাস আগে দিদির বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল ওই কিশোরী। সেখানেই তাঁর এক দেওরের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চক্ষু লজ্জার ভয়ে সে বাড়ির কাউকে বলে উঠতে পারেনি। যদিও কিশোরীর মা মাস ছয়েক পর জানতে পেরে পেটে থাকা সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘সমস্ত ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ দেখছে।’ ওই প্রসূতির মা এদিন হাসপাতাল ক্যাম্পাসে দাঁড়়িয়ে বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে হয়নি। বড় মেয়ের দেওর এই সর্বনাশ করেছে। তাকে ফোন করা হয়েছিল। সে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে নারাজ। তাই সদ্যোজাত কন্যা সন্তানকে হাসপাতালে ফেলে চলে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। বাড়িতে ফিরলে গ্রামবাসীরা এই ঘটনায় আমাদের এক ঘরে করে রাখবে।’

উত্তর দিনাজপুর চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি চেয়ারম্যান তথা রায়গঞ্জ আদালতের আইনজীবী অসীম রায় জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে। প্রসূতি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও সন্তান সুস্থ রয়েছে। সোমবার পুলিশ প্রহরায় ছুটি দেওয়া হবে ওই কিশোরীকে।