সন্তানকে দুধ খাওয়াতে ২০ কিলোমিটার হাঁটলেন মা

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : এই শিশু একদিন বড় হয়ে গল্প শুনবে- মা কীভাবে কাকভোরে ২০ কিলোমিটার হেঁটে এসেছিলেন তাকে একবার দুধ খাওয়াবে বলে। জানবে, করোনা বলে এক ভযংকর অসুখও মাকে তার কাছ থেকে দূরে সরাতে পারেনি।

মাতৃস্নেহ বোধহয় একেই বলে। ১৪ মাসের সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর জন্য মাটিগাড়ার কোভিড হাসপাতাল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হাতিঘিসার সরকারি কোয়ারান্টিন সেন্টারে চলে গেলেন এক মহিলা। কাকভোরে কোভিড হাসপাতালে সবাই তখন ঘুমিয়ে কাদা। কাকপক্ষীও টের পায়নি। সন্তর্পণে গেট পেরিয়ে বেরিয়ে আসেন করোনা সংক্রামিত ওই মহিলা। অত ভোরে রাস্তায় কোনও গাড়ি না থাকাই স্বাভাবিক। তাই তিনি হাঁটতে শুরু করেন। মাটিগাড়া থেকে বাগডোগরা হয়ে দীর্ঘপথ হেঁটে হাতিঘিসায় যখন কোভিড আক্রান্ত ওই মহিলা পৌঁছান তখন অনেকটাই বেলা গড়িয়েছে। হাতিঘিসায় গিয়ে কোলের সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে দেখা করার খবর মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্তাদের কানে পৌঁছায়। সেখানে ছুটে যান ব্লকের স্বাস্থ্যকর্তারা। আবার গাড়ি করে ওই মহিলাকে কোভিড হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।

- Advertisement -

যদিও বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যকর্তারা সরকারিভাবে মুখ খুলতে চাননি। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেছেন, কোভিড-১৯ আমাদের অনেক কিছুই শেখাল। এসব হয়তো আমরা কোনওদিন জানতে পারতাম না। কোভিড সংক্রামিত হলে একজনের সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে কেমন দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। এটা এমনই একটা রোগ যে অনেক গভীর সম্পর্ককেও নষ্ট করে দেয়। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, কোভিড দেখিয়েছে পেটের জ্বালায় মধ্যবিত্তকে ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে। একটা সময়, যিনি কোট-প্যান্ট পরে, নিদেনপক্ষে মোটরবাইকে চেপে কাজে বেরিয়েছেন, তাঁকেও দেখা গিয়েছে ত্রাণের লাইনে মাস্ক বা রুমালে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে থাকতে। এটা তাঁর কাছে যতটা কষ্টের তাঁর পরিচিতদের কাছেও ততটাই বিড়ম্বনার। তার মধ্যে এমন ঘটনা সত্যিই অন্যরকম।

যে মহিলা এদিন হেঁটে মাটিগাড়ার কোভিড হাসপাতাল থেকে হাতিঘিসা কোয়ারান্টিন সেন্টারে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে ও স্তন্যপান করাতে যান তিনি নকশালবাড়ির বাসিন্দা। রবিবার তাঁর শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে মাটিগাড়ার কোভিড হাসপাতালে ভরতি করা হয়। তাঁর পরিবারের লোকদের নিয়ে যাওয়া হয় হাতিঘিসা কোয়ারান্টিন সেন্টারে। সেখানে মহিলার সন্তান ও স্বামী রয়েছেন। রয়েছেন পরিবারের আরও কয়েকজন। ২৬ তারিখ তাঁরা নয়ডা থেকে নকশালবাড়িতে এসেছিলেন। তাঁদের লালা পরীক্ষা হলে মহিলার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।