কোলে শিশু নিয়ে ১৩ কিলোমিটার পাড়ি মায়ের

গাজোল : লকডাউনের জেরে স্বামী আটকে পড়েছেন বেঙ্গালুরুতে। কাজ হারিয়েছেন তিনি। ফলে পাঠাতে পারছেন না টাকাপয়সা। আর এর জেরে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন আদিবাসী গৃহবধূ মার্গারেট হাঁসদা। ঘরে রয়েছে আট বছর, সাড়ে তিন বছর এবং ছয় মাসের তিন সন্তান। হাতে সামান্য যে টাকাপয়সা ছিল তা দিয়ে কোনওরকমে এতদিন সংসার টেনে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু এখন হাতে আর কিছুই নেই। র‌্যাশন কার্ড না থাকায় পাচ্ছেন না বিনা পয়সার র‌্যাশন সামগ্রীও। তাই বাধ্য হয়ে ৬ মাসের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে সাহায্যের আশায় ১৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসলেন গাজোলে। তাঁর কথা শুনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন গাজোল থানার ওসি। আর্থিক সাহায্য দেওয়া হল সাংবাদিকদের তরফেও।

গাজোলের দেওতলা অঞ্চলের বানিয়াপুকুর গ্রামে বাস করেন মার্গারেট হাঁসদা (২৬)। স্বামী চন্দন টুডু আটকে পড়েছেন বেঙ্গালুরুতে। লকডাউনের জেরে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁর রোজগার। চরম কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। টাকাপয়সা পাঠাতে পারছেন না। এদিকে সংসারে রয়েছে আট বছর বয়সের এক ছেলে, সাড়ে তিন বছর বয়সের এক মেয়ে এবং মাস ছয়ে বয়সের এক ছেলে। স্বামী টাকাপয়সা পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় এই কদিন হাতে যে টাকাপয়সা ছিল তা দিয়ে কোনওরকমে দিন গুজরান হয়েছে। এরপর বেঁচে থাকার তাগিদে বেশ কিছুটা দূরে একটি রাইস মিলে গিয়ে ফেলে দেওয়া ধানের পাতান বাড়িতে নিয়ে এসে তা থেকে ধান সংগ্রহ করতেন। তারপর সেই ধান বিক্রি করে কোনওরকমে খাওয়া জুটত। কিন্তু তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরপর লোকজনের বাড়িতে চেয়েছিন্তে যা পেতেন তা তুলে দিতেন ছেলেমেয়েদের মুখে। কিন্তু গ্রামের লোকেদের অবস্থাও এখন খারাপ। যার ফলে সাহায্য করতে পারছেন না তাঁরাও। তাই সাহায্যের আশায় ৬ মাসের শিশুসন্তানকে বুকে আঁকড়ে ধরে বানিয়াপুকুর থেকে গাজোল হেঁটে এসেছেন তিনি।

- Advertisement -

মার্গারেট জানালেন, তাঁর এবং তাঁর স্বামীর কোনও র‌্যাশন কার্ড নেই। যার ফলে র‌্যাশন থেকে যে বিনামূল্যে চাল-আটা দেওয়া হচ্ছে তাও পাচ্ছেন না। তিনি শুনেছেন, গাজোলে অনেক বড় বড় অফিসার থাকে। তাই সাহায্যের আশায় গাজোলে ছুটে এসেছেন। বেশিরভাগ রাস্তা হেঁটেই এসেছেন। তবে মাঝে একটি অটো কিছু দূর পর্যন্ত নিয়ে আসে। তাঁর কথা শুনে সাংবাদিকদের তরফেও তাঁকে আর্থিক সাহায্য করা হয়। যোগাযোগ করা হয় গাজোল থানার ওসি হারাধন দেব এবং এএসআই শুভেন্দু বিকাশপতির সঙ্গে। ওই মহিলার অসহায়তার কথা শুনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাঁরা। সংসার চালানোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসেন ওসি। অন্য খরচার জন্য তুলে দেন বেশ কিছু টাকা। ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় বাড়ি ফেরার। সাহায্য পেয়ে মার্গারেট বলেন, এদিন সকলে যেভাবে সাহায্য করলেন তাতে তাঁদের মধ্যেই ভগবানকে দেখতে পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছেন গাজোল ব্লকের খাদ্য নিয়ামক তারক দেবনাথও। দ্রুত ওই মহিলা এবং তাঁর পরিবার য়াতে র‌্যাশন ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন তিনি।