পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট : শহরের একেবারে মাঝখানেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বিশাল আবর্জনার স্তূপ। বালুরঘাটের জনবহুল বাজারপাড়া থেকে সাড়ে তিন নম্বর মোড়ের দিকে যাওয়ার গলির পাশেই দেখা মিলবে উচ্চতাবিশিষ্ট এই ঢিপির। জায়গাটিতে জঞ্জালের স্তূপ বর্তমানে পাহাড়ের আকার ধারণ করেছে। অথচ এই আবর্জনা পরিষ্কার করার ব্যাপারে পুরসভার কোনো হেলদোল নেই। এমনটাই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, পুরসভার আবর্জনা পরিষ্কার করার গাড়ি সকাল করে শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। তাহলে কীভাবে এই জায়গাটি নজরের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। এই নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিন্টু সরকার জানান, এই আবর্জনা একদিনে তৈরি হয়নি। আজ এখানে আবর্জনা যে রূপ ধারণ করেছে তা তিলেতিলে গড়ে উঠেছে। আবর্জনার এই স্তূপের চারপাশে ঘন জনবসতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ফেলে দেওয়া বর্জ্যসামগ্রীও এখানে দিনের পর দিন জমা হয়ে থেকেছে। আবর্জনা পরিষ্কার করার ভ্যান এসে যদি এই জঞ্জাল নিয়ে যায়, তাহলে জায়গাটি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। কিন্তু তার দেখা পাওয়া দুষ্কর।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বাজার থেকে মূল রাস্তায় ওঠার পকেট রুট ছিল এই সরু গলি। কিন্তু এখন এই গলি দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। দুর্গন্ধের ফলে অনেকেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। নোংরার ফলে ব্যবসাতেও ক্ষতির মুখ দেখতে হয়। কিছু অসচেতন নাগরিক আবর্জনা দেখে প্রস্রাবকর্মও সেরে যান এইখানেই। শহরের ঠিক মাঝখানেই ক্রমশ এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন জমে থাকা বর্জ্যের ফলে ছড়াচ্ছে রোগব্যাধি। শুধু এই এলাকা নয়, আশপাশের মানুষেরাও এই জঞ্জাল থেকে দূষণের আতঙ্কে রয়েছেন।

ইতিমধ্যে অনেকেই দাবি তুলেছেন, পুরসভা এ বিষয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ করুক। শহরের বুক থেকে এই আবর্জনার পাহাড় সরিয়ে ফেলা হোক। এই বিষয়ে বালুরঘাট পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক অতনু মণ্ডল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন হয়ে থাকলে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। খুব শীঘ্রই আমি পদক্ষেপ করব। পুরসভার পক্ষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই খোলা জায়গাটিকে আবর্জনামুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।