বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মৌনী, রিসেপশন কোচবিহারেও

469

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : শহরের ব্যাংচাতরা রোডের বাড়িটি দেখলে এখন আর বোঝার উপায় নেই, এই বাড়িতে শৈশব কাটানো এক তরুণীকে নিয়ে এখন বলিউডে দারুণ হইচই। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিনই তাঁর ছবি। প্রতিদিনই তাঁর বিয়ে নিয়ে নানা জল্পনা। তিনি এখন টিভিতে দেশের জনপ্রিয়তম অভিনেত্রী যে।

কোচবিহার থেকে মুম্বই গিয়ে সুপারহিট নায়িকা হয়ে ওঠা মৌনী রায়ের বিয়ের ফুল শেষপর্যন্ত ফুটছে। তাঁর পিসতুতো দাদা বিদ্যুৎ রায়সরকারের কাছে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের বয়ফ্রেন্ড সুরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে জানুয়ারিতেই বিয়ে। বিয়েটা হবে দুবাই বা ইতালিতে। পরে কোচবিহারেও একটি অনুষ্ঠান হবে। আমরাও সবাই যাব, বললেন মৌনীর দাদা।

- Advertisement -

মৌনীর প্রেমিক সুরজ দুবাইয়ের ব্যাংকার, ব্যবসায়ী। আসলে বেঙ্গালুরুর জৈন পরিবারের ছেলে। ব্যাংচাতরা রোডের বাড়িটিতেই কেটেছে মৌনীর শৈশব। দীর্ঘদিন তিনি আসেন না। বাবা অনিল রায় ছিলেন কোচবিহার জেলা পরিষদের অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট। তিনি প্রয়াত হয়েছেন কয়েক বছর আগে। মা মুক্তি রায় দিনহাটার পেটলা হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা।

বাবা-মা দুজনেই চাকরি করায় মৌনীর ছোটবেলার অনেক সময়টাই কেটেছে পিসতুতো দাদার কাছে। এখন মৌনীদের বাড়ি দেখাশোনা করেন তিনি। শুক্রবার তিনি বলছিলেন, ছোটবেলায় আমরা একসঙ্গে বেশিরভাগ সময় থাকতাম। ওকে স্কুলে দিয়ে আসা, নিয়ে আসা সবটাই করতাম। সমস্ত আবদার ছিল আমার কাছেই। বড় কোনও বিষয়ে ওর বাবা রাজি না হলে সেই রাজি করানোর দায়িত্ব পড়ত আমার উপর। এখনও মাঝেমধ্যেই ফোনে কথা হয়।

শেষবার কবে কোচবিহার এসেছেন মৌনী? দাদার কাছে জানা গেল, ২০১৫ সালে নিজের শহরে এসেছিল বোন। নিরাপত্তার কারণে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও কোচবিহারের প্রচুর ফ্যানের উচ্ছ্বাসকে দমিয়ে রাখা যায়নি। বাড়ির সামনে ভিড় হয়ে যায়। তাঁর সংযোজন, রাজবাড়িতে ঘোরার পাশাপাশি অল্পবিস্তর শপিংও করেছিল মৌনী। ছোটবেলা থেকেই সাজতে ভীষণ পছন্দ করত। সামনে পুজো আসছে। আর এই সময় বোনের কথা বেশি করে মনে পড়ছে।  ফোনে মৌনীর ভাই মুখর বলছিলেন, দিদি এখন শুটিংয়ে ব্যস্ত। কোচবিহারে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে ছোটবেলার গল্প করার সময় দিদি সবসময় কোচবিহারের কথা বলে।

কিছুক্ষণ পরে কথা হল নীলাঞ্জনা সেনগুপ্তের সঙ্গে। অঞ্জনা ভৌমিকের মেয়ে গলায় আন্তরিকতা। বলছিলেন, অসুস্থতার জন্য মা আবার কোচবিহার কবে যেতে পারবেন জানি না। তবে এখনও উনি মাঝে মাঝে কথা বলেন কোচবিহারের স্মৃতি নিয়ে যিশু সেনগুপ্তের স্ত্রী নীলাঞ্জনার নিজেরও মনে রয়েছে, কোচবিহারে শৈশবে যাওয়ার গল্প।

অঞ্জনা থেকে মৌনী-দুই প্রজন্মের দুই বিখ্যাত অভিনেত্রীর নাম জড়িয়ে কোচবিহারের সঙ্গে। কোচবিহার কতটা মনে রেখেছে তাঁদের? এ প্রশ্ন নিয়ে কোচবিহারে ঘুরলে পুজোর আগে স্মৃতির পাহাড় তাড়া করে অনেককে। অনেকের মনেই গেঁথে তাঁদের ছোটবেলার ছবি।

কোচবিহার থেকে তুফানগঞ্জের দিকে যেতে জাতীয় সড়কের পাশেই ডাউয়াগুড়ি এলাকা। সেখানকার কলেরপাড় নামে একটি জায়গাতেই অঞ্জনার বড় হওয়া। জাতীয় সড়ক থেকে ডানদিকের ছোট্ট একটি রাস্তার ভিতরে পাশেই সেই বাড়ি। ওই বাড়িতেই অঞ্জনার ভাই ও তাঁর পরিবারের বসবাস। তবে সেই বাড়িতে গিয়ে তাঁদের দেখা মেলেনি। গ্রামীণ এলাকায় ওই বাড়িটিতে গ্রাম্য ছাপ স্পষ্ট। পাকা মেঝে, টিনের চালার ওই বাড়িতেই অঞ্জনার বেড়ে ওঠা।

অঞ্জনা কিছুটা আবছা হয়ে এলেও মৌনী অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর দাদা বিদ্যুৎ বলছিলেন, আর পাঁচটা মেয়ে মতোই দুর্গাপুজোর জন্য অপেক্ষা করত ছোট্ট মৌনী। দিনের বেলায় বান্ধবীদের সঙ্গে দলবেঁধে ঘুরত। সন্ধের পর পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বেরোত।

বাবুরহাট কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে মৌনীর সঙ্গে পড়াশোনা করতেন গৌরব দত্ত। বলছিলেন, স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি যে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিত মৌনী। ও যখন সিরিয়ালে অভিনয় করে রীতিমতো স্টার, তারপরেও প্রায় প্রতি দুর্গাপুজোতে কোচবিহারে আসত। আমরা বন্ধুবান্ধবরা মিলে একসঙ্গে অনেকবার পুজোতে ঘুরেছি। রাসমেলাতেও দুএকবার এসেছিল।

অঞ্জনার পড়াশোনা শহরের সুনীতি অ্যাকাডেমিতে। চৌরঙ্গী, নায়িকা সংবাদ, রৌদ্রছায়া, রাজদ্রোহীর নায়িকা অনেকদিন অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু মধ্যগগনে মৌনী। তাঁর বিয়ের পরে একটি রিসেপশন কোচবিহারে হলে, অবশ্যই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের নজরে আবার উঠে আসবে কোচবিহার।