কবির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ জলপাইগুড়ি

59

জলপাইগুড়ি: শ্বশুরবাড়ির সৌজন্যে প্রায়শই উকিলপাড়ায় যাতায়াত ছিল তাঁর। স্বাভাবিকভাবেই শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ জলপাইগুড়ি জেলার উকিল পাড়া। শোকস্তব্ধ পরিজনেরাও। স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেছেন অতীতের একাধিক গল্পকথা।

জলপাইগুড়ি শহরে কবি শঙ্খ ঘোষের আদি শ্বশুরবাড়ি। সেই বাড়িতে বসে লিখেছেন একাধিক কবিতাও। পরিবার সূত্রে খবর, শেষ ২০১৫ সালে উকিলপাড়ায় পা রেখেছিলেন শঙ্খ ঘোষ। এরপর ২০১৮ সালে প্রয়াত কবির শ্বশুরবাড়ির ভিটে বিক্রি হয়। সেই বাড়ির পাশেই বহুতল আবাসনে স্বামী শেখর করের সঙ্গে থাকেন তাঁর ভাইঝি পারমিতা ঘোষ। সেই বাড়িতেও অবাধ যাতায়াত ছিল প্রয়াত কবির।

- Advertisement -

পরিবার সূত্রে খবর, ১৯৬৮ সালের জলপাইগুড়ির ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির পর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কলকাতায় ত্রান সংগ্রহে নামতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। গরম হোক কিংবা শীতের ছুটি, নিয়ম করে উকিল পাড়ায় হাজির হতেন তিনি। জেলার একাধিক বিষয় নিয়ে কবিতা লেখার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও কবিতা লিখেছেন ওই দুই বাড়িতে বসে। তবে উকিল পাড়ার বাড়িতে পা রাখার পর থেকেই কবিতা নিয়ে খুব কম আলোচনা করতেন। পরিজন সহ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গেই সময় কাটাতে ভালোবাসতেন তিনি। পছন্দ করতেন নাইট ল্যাম্প জ্বালিয়ে একাকী বসে থাকতে।

তিনি শিখিয়েছিলেন আমাদের সেই অমোঘ সত্য়উচ্চারণ, হাতের ওপর হাতটি রাখা সহজ নয়। আবার বিজ্ঞাপনী বাড়বান্তে বিরক্ত হয়ে কবি লিখেছিলেন, একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি/ তোমার জন্য় গলির কোনে, ভাবি আমার মুখ দেখাব/ মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।

এত সহজভাবে কঠিন কথা হয়তো তিনিই বলতে পারতেন। আমরা হারালাম সেই মুখর কবিকে। তাই বলতেই পারি শব্দরা আজ স্তব্ধ।