ম্যাচ শেষ করে ফিরতে মরিয়া ছিলেন ধোনি

দুবাই : তখন প্রায় মাঝরাত।

ঘুম দূরের থাক, গোটা হোটেল জেগে বিজয়ীদের স্বাগত জানাতে। দুরন্ত ফিনিশে দিল্লি বধ। নবমবার আইপিএল ফাইনালের টিকিট। হলুদ রঙা টিম বাসটা হোটেলে ঢুকতেই গগনভেদি আওয়াজে রাতের নিঃস্তব্ধতা ভেঙে খানখান।

- Advertisement -

কারও চোখে জল। কেউ আনন্দে লুটোপুটি। একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। সিটি মারছেন কেউ। সুপার কিংসদের ঘিরে সাফল্যের নানান কোলাজ। টম কুরানের চতুর্থ বলটা মাঠের বাইরে মহেন্দ্র সিং ধোনি ছিটকে দিতেই উৎসবের সূচনা।

গোটা ডাগআউট ছুটছে মাঠের দিকে। লক্ষ্য ফিনিশার মাহি। কিং ইজ ব্যাক। আর কিংয়ের কাঁধে চেপে ফাইনালে দল। স্বামীর সাফল্যের আনন্দে সাক্ষীর চোখের কোণও চিকচিক করছে। একটু দূরে গ্যালারিতে দলের জার্সি পড়া দুটি বাচ্চা হাইহাউ করে টানা কেঁদে চলেছে! দলের প্রতি ভালোবাসা, মাহি-আবেগ!

ক্যামেরাতে তা ধরা পড়ার পর সতীর্থদের সঙ্গে উৎসব ভুলে মাহিও দৌড়োলেন দুই খুদে সমর্থকের দিকে। সঙ্গে উপহার অটোগ্রাফ করা বল। মাঠ থেকেই ছুঁড়ে দিলেন। দিনের অন্যতম সেরা ছবিটা ছুঁয়ে গেল সুনীল গাভাসকারকেও। কিংবদন্তির কথায়, চেন্নাই সমর্থকরা এরকমই। সিএসকে ওদের কাছে শুধু দল নয়, একটা পরিবার।

আর সেই পরিবারের হেড এমএস। চল্লিশের চালশেমি থাবা বসালেও এখনও পুরোপুরি ফুরিয়ে যাননি। এখনও যখন মিডাস টাচটা বেরিয়ে আসে, তখন বিপক্ষ দল দর্শক। কাল তেমনই একটা রাত। ফিনিশার ফিনিশ হয়নি, কিং ইজ ব্যাক, চিরকালের সেরা ফিনিশার- আবারও চেনা বিশেষণগুলি ছেয়ে থাকল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

মাত্র ৬টি বলের ইনিংসে যে ঝড় তুললেন, তাতে উড়ে গেল দিল্লির যাবতীয় প্রতিরোধ। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার পরিস্থিতিতে চার বলেই বৈতরণি পার! মাহির কথায়, ইনিংসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বল দেখে শট খেলার চেষ্টা করেছি। টম কুরান (বোলার) কী করতে চাই, তা বুঝে ব্যাট চালিয়েছি। আসলে নেটে ভালো ব্যাটিং করলেও, ম্যাচে রান পাচ্ছিলাম না। এদিন মরিয়া ছিলাম, ম্যাচ শেষ করে ফেরার জন্য।

প্রাপ্তির ম্যাচ। তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি। আর একটা ম্যাচ- তাহলেই প্রাপ্তির ঘড়া পূর্ণ।