সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা, উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিন্তিত মোবারকের পরিবার

388

সামসী: বাবা সামান্য দিনমজুরের কাজ করেন। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। এই অভাবি সংসারের মধ্যেই এবছর পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ড পরিচালিত মাধ্যমিকে গোটা রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে মোবারক হোসেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৭৬৩। বাংলায় ৯৪, ইংরেজি ৮৭, অংকে ৯৮, ভৌতবিজ্ঞান ৯৪, জীবন বিজ্ঞান ৯৯, ইতিহাস ৯৫, ভূগোল ৯৭, ইসলাম পরিচয়ে ৯৯ এবং ঐচ্ছিক আরবি বিষয়ে পেয়েছে ৮১ নম্বর।

রতুয়া-২ ব্লকের রানিনগর হাইমাদ্রাসা থেকে মোবারক মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। তাঁর এই ফলাফলে এলাকাবাসীদের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারাও যথেষ্ট খুশি। কিন্তু ছেলের ভালো ফলাফলে চিন্তা বেড়েছে পরিবারের। ছেলের উচ্চশিক্ষা নিয়ে বাবা মাজহারুল হকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

- Advertisement -

মেধাবী মোবারক হোসেনের বাড়ি গাজোল ব্লকের বৈরগাছি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দেওয়ানি গ্রামে। বাবা মাজহারুল হক দিনমজুরি করে সংসার চালান। মা মেনকা বিবি গৃহবধূ। তার ওপর ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগানো গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো। জমিজায়গা নেই এক কাঠাও, শুধু মাত্র কাঠা পাঁচেক ভিটে বাড়ি সম্বল। মাটি ও বাঁশের টালির দেওয়াল, একদম মহানন্দা নদির পাশে বাড়ি। বাড়িটি নদির ভাঙ্গনে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়ে রয়েছে।

তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে, মোবারক পরিবারের ছোট ছেলে, মোবারকের বড়ো দুই দিদি রয়েছে। বড়ো দিদি নাসরিন আকতার বানু বাংলায় অনার্স করে বর্তমানে বিএড করছে। ছোট দিদি নার্গিস পারভিন সামসী কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছে। এদিকে, মোবারক হোসেন বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চায় আল আমিন মিশনের বেলডাঙ্গা শাখায়। কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে চিন্তায় রয়েছে মোবারক। তাঁর পরবর্তীতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে ঠিকই কিন্তু পরিবারিক আর্থিক অভাবে সম্ভব হবেনা। তবুও মোবারক তার অদম্য জেদ ও ইচ্ছে শক্তির জোরে এগিয়ে যেতে চায়।

বাবা মাজহারুল হক বলেন, আমি ১৯৯৩ সালে মাধ্যমিক পাশ করি, আরো পড়ার ইচ্ছে থাকলেও অর্থাভাবে পড়াশুনা বেশিদূর এগোতে পারিনি, ইচ্ছে ছিল ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করিয়ে নিজের অধরা স্বপ্ন পূরণ করবো। ছেলেমেয়েদের মানুষ করার জন্য রাতদিন খেটে যাচ্ছি। দিন মজুরির কাজ করে যেটুকু পাই তাতে সংসার ও ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার যোগান দি, তবুও খুব কষ্ট হয়।

মা মেনকা বিবি জানান, মুরগি,ছাগল পুষে এবং তা বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ কিছুটা হলেও সাহায্য করি। পয়সার অভাবে মোবারককে প্রাইভেট টিউশনি পড়াতে পারিনি। স্কুলের ওপরই নির্ভরশীল ছিল ছেলে। নতুন পোশাকও কিনে দিতে পারিনি। মেনকা বিবি জানায়,আল্লাহর কাছে দুয়া করবো শত প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও ছেলে মোবারক ডাক্তার হয়ে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে পারুক৷

রানিনগর হাই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নেজামুদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবারক বরাবরই ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিল, ও ভালো ফল করবে সে ব্যাপারে আমরা আশাবাদী ছিলাম, ও আমাদের মাদ্রাসার সুনাম কুড়িয়েছে, ওর আরো সাফল্য কামনা করি। তবে মোবারকের পড়াশুনার জন্য মাদ্রাসার তরফে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷