চাঁদা না দেওয়ায় আইনজীবীকে রাস্তায় ফেলে পেটাল মুহুরীরা

112

হরিশ্চন্দ্রপুর: রেজিস্ট্রি অফিসের চেম্বার করে কাজ করতে হলে দিতে হবে চাঁদা, না হলে কাজ করতে দেওয়া হবে না। চাঁদার পরিমাণ আবার বেশ মোটা অঙ্কের। অভিযোগ, দাবি মতো তা স্থানীয় রেজিস্ট্রি অফিসের মুহুরীদের দিতে অস্বীকার করায় রাস্তায় ফেলে পেটানো হল চাঁচল আদালতের এক আইনজীবীকে। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষন একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশ করার চেষ্টাও করা হয়। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার তুলসিহাটা রেজিস্ট্রি অফিসে। গভীর রাতেই এবিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় ওই মুহুরীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান চাঁচল বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

জানা গিয়েছে, মাহিদুর রহমান নামে ওই আইনজীবী গত বৃহস্পতিবার তুলসিহাটা রেজিস্ট্রি অফিসে জমির রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত একটি কাজের জন্য চাঁচল আদালতে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে বাড়ির দিকে রওনা দেন তিনি। অভিযোগ, সেসময় মাইনুল হক সহ আরও কয়েকজন মুহুরী তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। আইনজীবী মাহিদুর টাকা দিতে অস্বীকার করায় শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয় গলায় মাফলার জড়িয়ে। পাশাপাশি নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

- Advertisement -

এপ্রসঙ্গে আইনজীবী মাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমি গত বৃহস্পতিবার ওখানে একটি জমি রেজিস্ট্রির সংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলাম। রেজিস্ট্রি শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আমি যখন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দেই তখন ওই অফিসেরই কয়েকজন মুহুরী আমার কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি তা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে উপস্থিত কয়েকজন মিলে প্রচুর মারধর করে। আমার কাপড় ধরে টানাটানি করে। আমার পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপরে আমার গলায় মাফলার জড়িয়ে আমাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আজ হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে এসেছি। আশা করব পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

চাঁচল বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য চিন্ময় মিশ্র বলেন, ‘খুব নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্যের উপর এই হামলার তীব্র নিন্দা করছি। আজ আমরা হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করলাম। চাঁচল বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ওই অভিযুক্ত মুহুরীদের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে। আমাদের দাবি অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।‘

হরিশ্চন্দ্রপুর থানা আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান, অভিযোগ পেয়েছি। আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি।

তুলসিহাটা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সমর উপাধ্যায় জানান, সেদিন তুলসিহাটা রেজিস্ট্রি অফিসে প্রচুর ভিড় ছিল। চাঁচলের ওই উকিলবাবুর সঙ্গে আমাদের সদস্যদের হয়তো একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু কোন মারধর করেনি। চাঁচলের উকিলদের সঙ্গে ও আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।