পাড় ভেঙে এগোচ্ছে মুজনাই, আতঙ্ক প্রধানপাড়ায়  

285

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: পুরোনো নদীখাত ছেড়ে নয়া খাত তৈরি করেছে মুজনাই নদী। ক্রমেই এগিয়ে আসছে লোকালয়ের দিকে। ফলে, ঘুম উড়েছে মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধানপাড়ার বাসিন্দাদের। ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই মুজনাই নদীর গর্ভে হারিয়ে গিয়েছে অনেকের কৃষিজমি। এলাকাবাসীর দাবি, নদীভাঙন রোধে প্রধানপাড়ায় মুজনাই নদীর পাড় বরাবর বোল্ডারের পাড়বাঁধ তৈরি করতে হবে। রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েত সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

প্রধানপাড়ায় মুজনাই নদী ইংরেজি ‘ইউ’য়ের আকার নিয়ে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পূর্ব দিকে নদীর পুরোনো খাতের ওপর জেগে উঠেছে বিরাট চড়া। এলাকার বাসিন্দা বিনোদ নার্জিনারী  বলেন, ‘আগে মুজনাই নদী প্রায় দু’শো মিটার পূর্ব দিকে বয়ে যেত। দু’বছরে প্রায় দু’শো মিটার পশ্চিম দিকে সরে গিয়েছে নদীটি। ফলে নদীগর্ভে হারিয়ে গিয়েছে বীরেন কার্জি, রঞ্জিত কার্জির জমি। রবিন কার্জির বাগানের গা ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে নদীটি।’

- Advertisement -

ক্ষতিগ্রস্ত রঞ্জিত কার্জি বলেন, ‘এ বছর বৈশাখ মাস থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বছরের প্রথম মাস থেকেই নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া পাড়বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই বর্ষাকালে নদীর জল আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে।’ এলাকার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত পাড়বাঁধ তৈরির কাজ শুরু না হলে এই বর্ষায় কৃষিজমির বিরাট অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।

তৃণমূলের মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক কমিটির সভাপতি সঞ্জীব দত্ত বলেন, ‘ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গ্রামপঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের সাথে কথা বলা হয়েছে।’ রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্যা সারিকা নার্জিনারী বলেন, ‘প্রধানপাড়ায় নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে গ্রামপঞ্চায়েত স্তরে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’

প্রধানপাড়ায় মুজনাই নদীর পাড়ভাঙন নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্যা আশা নার্জিনারী বলেন, ‘এই মূহুর্তে করোনা নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কারণে বাঁধ নির্মাণের কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। তবে আমি ভাঙন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’