পাড় ভাঙছে মুজনাই নদী, পঞ্চায়েতে আস্থা নেই গ্রামবাসীদের

111

রাঙ্গালিবাজনা: বর্ষায় ফুঁসছে মুজনাই নদী। প্রতিবছরের মতো এবারও মুজনাই নদীর পাড়ভাঙনের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ও ফালাকাটা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়। মাদারিহাটের রাঙ্গালিবাজনা, খয়েরবাড়ি, ফালাকাটার দেওগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় পাড়ভাঙন রোধে জনপ্রতিনিধিরা উদাসীন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষায় প্রবল ভাঙন শুরু হলে জনপ্রতিনিধিরা পাড়বাঁধ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বর্ষা পেরিয়ে গেলেই তাঁরা বেমালুম ভুলে যান প্রতিশ্রুতির কথা। তাই এখন আর তাঁরা জনপ্রতিনিধিদের ওপর ভরসা করেন না। তার চেয়ে তাঁরা অনেক বেশি ভরসা করেন মুজনাই নদীর নিয়ন্ত্রক কল্পিত দেবতা ‘মুজনাই বাবার’ ওপর। তবে মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানানো হয়েছে, মুজনাইয়ের পাড়ভাঙন রোধে ১০০ দিনের প্রকল্পে কয়েকটি পাড়বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেচ দপ্তর ও জেলা পরিষদের তরফেও পাড়বাঁধ তৈরির উদ্দেশ্যে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধুপাড়ায় এবারও মুজনাই নদীর প্রবল পাড়ভাঙন শুরু হয়েছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের মণ্ডলপাড়া, প্রধানপাড়া, দেবেন্দ্রপুর, মণিপুর, মোক্তারপুরেও পাড় ভেঙে লোকালয়ের দিকে এগোচ্ছে মুজনাই নদী। মণিপুরে পাড়ভাঙন রোধে তৈরি করা বাঁধ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে কয়েক বছর আগেই। নদী এখন বিনা বাধায় পাড় ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছে। দেবেন্দ্রপুরে বাঁশ পুঁতে বালি বোঝাই বস্তা দিয়ে পাড়ভাঙন রোধে ছোট্ট একটি বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, খরস্রোতা মুজনাই নদীর কাছে এধরনের বাঁধ কোনও প্রতিরোধই করতে পারে না। এধরনের কাজ মঞ্জুর হলে শুধু ঠিকাদার ও কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধিদের পকেট ভারী হয়।

- Advertisement -

ফালাকাটার মধ্য দেওগাঁওয়েও পাড়বাঁধ তৈরি না হওয়ায় বিঘার পর বিঘা জমি গ্রাস করে চলেছে মুজনাই নদী। ওই এলাকায় ইংরেজি বর্ণ ইউয়ের আকার নিয়ে বয়ে গিয়েছে মুজনাই নদী। বাঁকের মুখে সজোরে ধাক্কা মারছে জলস্রোত। ফলে বাঁকের মুখে পাড়ভাঙনের মাত্রাও বেশি। নেই কোনও পাড়বাঁধ। নদীর জল ফুলে উঠলেই বাঁকের মুখ দিয়ে উপচে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে বসতি এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে শ্যামল বিশ্বাসের ৮ বিঘা, নিতাই মণ্ডলের ৬ বিঘা, অনন্ত বিশ্বাসের ৮ বিঘা, রহিমা বেগমের ১ বিঘা, বেঙ্গি মণ্ডলের ৩ বিঘা জমি হারিয়ে গিয়েছে মুজনাইয়ের গর্ভে। মুজনাই এখনও ভেঙে চলেছে উপেন বিশ্বাস ও শ্যামল বিশ্বাসের জমি। বৃষ্টি হলেই নদীতে ধসে পড়ছে মাটির বড় বড় চাঙড়। অথচ, সর্বনাশ প্রত্যক্ষ করেও কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকছে না তাঁদের। অবশ্য দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকায় পাড়বাঁধ তৈরির জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শীঘ্রই বাস্তুকাররা এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।