মালদা, ১৭ এপ্রিলঃ উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মুর সমর্থনে মালদার তিন জায়গায় জনসভা করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। বুধবার সামসীর ঘাসিরাম বাবুর ফুল বাগানে নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সামসী ছাড়াও গাজল এবং বামনগোলা ব্লকের পাকুয়াহাট গোবরাকুড়ি মাঠে জনসভা করা হয়৷

এদিন জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের পর এক বাণে বিদ্ধ করেন মুকুল রায়৷ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সভা থেকে তিনি এদিন যে প্রশ্নগুলি তুলে যাবেন, এর পর এখানে যিনিই সভা করতে আসুন না কেন, তাঁকে এই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে হবে৷ একটা কথা প্রচার করা হচ্ছে, বিজেপি যেহেতু এনআরসি প্রয়োগ করছে, তাই এখান থেকে নাকি বহু মানুষকে চলে যেতে হবে৷ কিন্তু একটা কথা সবাই জেনে রাখুন, বিজেপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তান কিংবা অন্য যে কোনো দেশ থেকে যে সকল উদ্‌বাস্তু শরণার্থীরা এসেছেন, একটা রেশন কার্ড করার জন্য তাঁদের আর দৌঁড়োতে হবে না৷ তার জন্য নরেন্দ্র মোদিও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ কেউ কি জানেন, যখন পূর্ব পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল, সেদিন ওপার বাংলায় হিন্দু ছিল ২২ শতাংশ৷ এখন সেখানে হিন্দু আছে ৬ শতাংশ৷ এই দেশ থেকে শরণার্থী শব্দটা তুলে দিতে তাঁরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ তাঁরা প্রত্যেককে ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে চান৷ যেদিন সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল এল, কেন সেদিন তৃণমূল পালিয়ে গেল? এই দেশে এনআরসি লাগু হবেই৷ পাশাপাশি এদিন মুকুলের বক্তব্যে উঠে আসে সার্জক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গও৷ তিনি বলেন, ভারতীয় সেনারা যেদিন পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করল, সেদিন মাত্র দু’জন খুশি হতে পারেননি৷ রাহুল গান্ধি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বললেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রমাণ দিতে৷ মমতাদেবী এমন দাবি করলেন যেন পাকিস্তানে মৃত জঙ্গিদের লাশ গুনে গুনে তাঁকে দেখাতে হবে৷ যেদিন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা মহাকাশে স্পেস শাটল ধ্বংস করলেন, সেদিন সবাই বুঝতে পারল, এই দেশটাও এখন নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারবে৷ সেদিনও প্রশ্ন তুললেন নেত্রী৷ কিন্তু নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এখন ভারতবর্ষ সবাইকে বলছে, হাম কিসিসে কম নেহি৷ ৫৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র ৪২টিতে প্রার্থী দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মমতাদেবী৷ আর বলছেন, ২৭৩টি আসন নিয়ে তিনি নাকি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হবেন৷ আসলে তাঁর মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে৷ কয়েকদিন আগে ব্রিগেড সভা করলেন৷ সেখানে ২১টি রাজনৈতিক দলকে ডেকে নিয়ে আসলেন৷ সেখানে ওমর আব্দুল্লাও এসেছিলেন৷ আর ফারুক আব্দুল্লা যা বলছেন, তা তো মারাত্মক৷ তাঁর দাবি, ভারতবর্ষে দু’জন প্রধানমন্ত্রী করতে হবে৷ আসলে সেটা কোনো সভা হয়নি, হয়েছে সার্কাস৷ আর সেই সার্কাসের জোকার ছিলেন মমতাদেবী৷ তিনি নিজেকে সৎ বলে প্রমাণ করতে চান৷ অথচ তাঁর পাড়ার ৪১টি বাড়ি, ৩৫টি প্লটের মালিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর হাওয়াই চটি আর সাদা শাড়ির দাম শুনলে সবাই পাগল হয়ে যাবেন৷ এখন বাংলায় চোর, তোলাবাজদের রাজত্ব চলছে৷ সবাই লিখে রাখুন, ২০১৯, তৃণমূল ফিনিশ৷ মুকুলের বক্তব্য, তৃণমূলের কোনো নীতি কিংবা আদর্শ নেই৷ শুধু পয়সা কামানো আর লুট করাই তৃণমূলের নীতি৷ খগেন মুর্মু এই কেন্দ্রের নীতি৷ সিপিএমের একটা দর্শন রয়েছে৷ বামপন্থী রাজনীতি করা মানুষজনের কাছে তাঁর আবেদন, এই রাজ্যের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে বামপন্থী মানুষজন যেন সিপিএমকে ভোট দিয়ে নিজেদের ভোটটা নষ্ট না করেন৷ তিনি একই আবেদন রাখেন কংগ্রেস সমর্থকদের কাছেও৷ মুকুলবাবু আশ্বাস দেন, বিজেপি প্রার্থী জিতে আসলে এই রাজ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তাঁরা আবার কায়েম করবেন৷ তখন প্রতিটি মানুষ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে অবাধে, ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারবেন৷ মমতাদেবী ১ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা দেনার কথা চিৎকার করে বলতেন৷ কিন্তু এখন সেই দেনা তো ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ এই দেনা কে করল? নোটবন্দির জন্য কারোর টাকা নষ্ট হয়নি৷ উলটে দেশের ৫৬ কোটি মানুষ কর দিতে বাধ্য হয়েছে৷ মমতা বলছেন জিএসটি মানব না৷ কিন্তু সেই জিএসটির জন্য মমতার সরকার ৪৭ হাজার কোটি টাকা বেশি পাচ্ছে৷ তাই এখন মমতাদেবী আর বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথা বলেন না৷ এই রাজ্যে আজ পর্যন্ত যত শিল্প সম্মেলন হয়েছে, তার নামে যে টাকা খরচ হয়েছে, সেই টাকার শিল্প এখানে তিনি স্থাপন করতে পেরেছেন কি? জেলায় তৃণমূলনেত্রীর উপস্থিতিতে মুকুলবাবুর বক্তব্যকে বিশেষ অর্থবহ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷