ওয়াকফ বোর্ডের জমিতে বহুতল তৈরি নিয়ে গুঞ্জন

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহরে সোনাউল্লা ওয়াকফ এস্টেটের জমি দখল করে বহুতল নির্মাণ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মিলন সংঘ ময়দান সংলগ্ন ১৭ ডেসিমাল জমিতে বহুতল তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সোনাউল্লা এস্টেটের অন্যতম ডিরেক্টর (মোতোয়ালি) তথা সোনাউল্লা সাহেবের বড় নাতি লুৎফর রহমান। তিনি ইতিমধ্যেই এনিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি জেলা শাসক, জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক এবং পুরসভার নজরেও এনেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ওয়াকফ এস্টেটের জমি কোনওভাবেই হস্তান্তরিত হয় না। এ নিয়ে সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুরসভা কীভাবে ওই জমিতে বহুতল তৈরির জন্য বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করল।

এ নিয়ে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বিপ্লব হালদার বলেছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে যে, জমিটি স্বাধীনতার আগে সোনাউল্লা ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে ছিল। স্বাধীনতার পর জমিটি রায়তি জমিতে পরিণত হয়েছে। এব্যাপারে আরও তদন্ত চলছে। লুৎফর সাহেব বলেছেন, জলপাইগুড়ির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধুপাড়ায় আরএস প্লট নং-৩৭১, শিট নং-১৩ এবং ওয়াকফ খতিয়ান ৩৪৮৬-এ ১৭ ডেসিমাল জমি রয়েছে। এই জমিতে কীভাবে বহুতল তৈরি হল সে ব্যাপারে ব্লক ভূমি আধিকারিকের কাছে আরটিআই করে জানতে চেয়েছি। এখনও আরটিআইয়ে উত্তর হাতে এসে পৌঁছায়নি। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির মালিকাধীন কোনও জমির পাট্টা দেওয়া যাবে না। এই আদেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দেশবন্ধুপাড়ায় ওয়াকফ জমিতে পাট্টা দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, কোনও জমি একবার ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হলে তা সবসময় ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এখানে কীভাবে তার ব্যতিক্রম হল। লুৎফর সাহেবের আরও অভিযোগ, ওয়াকফ জমির সার্ভে করা হয়েছে কিন্তু বিস্ময়করভাবে দেশবন্ধুপাড়ায় ওয়াকফ বোর্ডের ১৩ নম্বর শিটের সার্ভে বাদ দেওয়া হয়েছে। সার্ভে না হলে স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। লুৎফর রহমানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াকফ বোর্ডের এগজিকিউটিভ অফিসার জানিয়েছেন, সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -

এদিকে, যাঁরা ওই জমিতে বহুতল তৈরি করছেন সেই প্রোমোটারদের পক্ষে বিশ্বজিৎ মিত্র বলেন, যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমাদের কাছে জমিটির প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। ৫০ বছর ধরে জমির মালিকানা আমাদের। হাত বদল হবার পর আমাদের কাছে জমিটি এসেছে। আমরা এখন ফ্ল্যাট তৈরি করছি। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, সোনাউল্লা সাহেবের বংশধরদের কাছ থেকে প্রথমে রবি ঝম্পটি এবং পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ মিত্র, কুন্দনমল আগরওয়ালা, সুনীল আগরওয়ালা জমিটি কেনেন। সবশেষে রঞ্জিৎ মিত্র এবং কেকা মিত্র পাঁচ কাঠা করে জমি কেনেন। রঞ্জিৎ মিত্র ও কেকা মিত্রর কাছ থেকে জমি কিনে আমরা বহুতল করছি। জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য সন্দীপ মাহাতোকে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেব।