ব্র‌্যান্ডেড পণ্যে ঠাঁই পেতে পারে হলদিবাড়ির টমেটো-লংকা

435

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : নামকরা ব্র‌্যান্ডের টমেটো সসে বা লংকার আচারে ঠাঁই পেতে পারে হলদিবাড়ি। দাম না পেয়ে হলদিবাড়ির টমেটো এবং লংকা রাস্তায় ফেলে দিয়ে চাষিদের বিক্ষোভ দেখানোর দিন এবার শেষ হতে চলেছে। একাধিক বহুজাতিক সংস্থা হলদিবাড়ির টমেটো এবং লংকা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের হাত ধরেই এবার দেশ-বিদেশের বাজারে পৌঁছে যাবে এখানাকার টমেটো, লংকা। আগ্রহ প্রকাশ করা বহুজাতিক সংস্থার তালিকাটা বেশ লম্বা। পতঞ্জলি থেকে শুরু করে আইটিসি, নেসলে, হিন্দুস্থান ইউনিলিভার সহ কানাডা, ভুটানের বড় বড় কোম্পানি এ বিষয়ে এগিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক করে ফেলেছে কোচবিহার জেলা প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে আরও একটি বড় বৈঠক হতে চলেছে হলদিবাড়িতে। ইতিমধ্যেই দুজন উদ্যোগী হলদিবাড়িতে টমেটো প্রক্রিয়াকরণের কারখানা খুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সবমিলিয়ে হলদিবাড়ির টমেটো ও লংকা নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছে। কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান বলেন, চার তারিখ আমরা একটি ভিডিও কনফারেন্স করি। সেখানে হলদিবাড়ির টমেটো এবং লংকা নিয়ে বড় বড় কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে। টমেটো ও লংকার প্রেজেনটেশন করা হয়েছিল। অনেক সংস্থাই কিনতে চাইছে। এখানকার চাষিদের এই উৎপাদিত ফসল যাতে ভালো বাজার পায়, দাম পায় তার জন্য পরিকল্পনা করে কাজ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে হলদিবাড়িতে আরও একটি বৈঠক করা হবে বলে জেলা শাসক জানিয়েছেন।

চার তারিখের বৈঠকের সাফল্য আসতে শুরু করেছে। বৈঠকে সিআইআই-এর প্রতিনিধিরা ছিলেন। তাঁরাই সমস্ত বৈঠকটি কোঅর্ডিনেট করেন। দিল্লিতে সিআইআই-এর ফায়ারমেন এগ্রিকালচার সেন্টার অফ এক্সিলেন্ট রয়েছে। তারাও বৈঠকে অংশ নিয়ে টেকনিকাল পরামর্শ দিয়েছিল। হলদিবাড়ির টমেটো এবং লংকা নিয়ে এরা একটি সার্ভেও করেছে। এই বৈঠকে যারা অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে সিংহভাগই টমেটো, লংকা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। কলকাতার একটি সংস্থাও লংকা কিনতে চেয়েছে।  জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম বৈঠকে সকলের মতামত, আগ্রহ, কতটা বাজার ওঠে তা দেখা হল। আগামী সপ্তাহে হলদিবাড়িতে যে বৈঠক রয়েছে, সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকে একটি ফার্মার্স প্রোডিউসার কোম্পানি খোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। ১২ মাস টমেটো চাষ করতে গেলে কী করতে হবে এবং দামের ওঠা-পড়া নিয়ে আলোচনা হবে। সিআইআই-এর নর্থবেঙ্গলের চেয়ারম্যান সঞ্জিত রায় বলেন,  প্রতি বছর হলদিবাড়ির টমেটো ও লংকা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। চাষিরা দাম পান না। তাই বিষয়টি নিয়ে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। টমেটো এক্সপোর্টাররাও ছিলেন। খুব পজিটিভ বৈঠক হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুটি সংস্থা টমেটো প্রসেস করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। হলদিবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, হলদিবাড়ি কৃষিপ্রধান এলাকা। গোটা দেশে এখানকার লংকা এবং টমেটোর চাহিদা রয়েছে। উৎপাদন বেশি হলে বাজার পড়ে যায়। কৃষকরা সমস্যায় পড়েন। যদি দেশ-বিদেশের ক্রেতা, কোম্পানি এগিয়ে আসে তাহলে কৃষক, ব্যবসায়ী সকলেই উপকৃত হবেন।

- Advertisement -