বাঁধ ভেঙে প্লাবিত পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকা

57

বর্ধমান: একদিকে টানা বৃষ্টি, আর অন্যদিকে ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ায় পূর্ব বর্ধমান জেলার দামোদর, মুণ্ডেশ্বরী, অজয়, ভাগীরথী সহ অন্য নদীতে জল বেড়েছে। নদীর জল ঢুকে আউসগ্রাম, কাটোয়া, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, রায়না ও জামালপুরের বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কৃষিজমি জলের তলায়। বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে বৃহস্পতিবার দামোদরে ২ লক্ষ ৪ হাজার ৩৮৬ কিউসেক জল ছাড়া হয়। এরপর শুক্রবার ব্যারেজ থেকে দুই দফায় প্রায় ৪ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়। যার জেরে দামোদরে জলস্তর বেড়েছে। শুক্রবার দামোদরের জল আউসগ্রাম, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, কাটোয়া ও জামালপুরের বেশ কিছু এলাকায় ঢুকে পড়ে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, অজয় নদের বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করে কেতুগ্রামের বিল্লগ্রামে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। আউসগ্রামের সাঁতল ধুকুর গ্রামেও অজয়ের জল ঢুকেছে। কেতুগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় বাঁধ ভেঙেছে। বিল্লেশ্বর, রসুই, ত্যাওড়া, চড়খি এলাকার বাসিন্দারা বালির বস্তা ফেলে বাঁধ বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তা বিফলে যায়।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার ৯টি ব্লকের ৫৭টি গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জেলায় ৩৩টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেগুলিতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। কৃষিজমি জলের তলায়। সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছে জেলা কৃষি দপ্তর।

জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা এদিন আউসগ্রাম ২ ব্লকের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। জেলাশাসক জানান, যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙেছে সেই সব এলাকায় জল কমলে সেচ দপ্তর কাজ শুরু করবে। বেশ কয়েকটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। খাবার ও জলের পাউচ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে প্রশাসনের নজর রয়েছে।