জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে বিপাকে একাধিক পরিবার

319

সামসী: জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণের পর এবার ভাঙা হচ্ছে বসত বাড়ি-দোকান ঘর। সূত্রের খবর, গত শুক্রবার থেকে সামসী বাইপাসে এই ধ্বংসের কাজ চালানো হচ্ছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে। এরফলে, লকডাউনের মাঝে বাড়ি-ঘর হারিয়ে শিশু-বয়স্কদের নিয়ে পথে বসতে চলেছে উচ্ছেদ হওয়া পরিবার গুলি।

যদিও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি মালিকেরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি-ঘর খালি করেন নি। বাড়ি-দোকান ঘর খালি করতে বহুবার নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি মাইকিং করে এলাকাবাসীকে জানানো হয়েছে। তারপরেও জমি ছাড়তে মালিকদের মধ্যে কোনও প্রকার হেলদোল দেখা যায়নি। কার্যত, বাধ্যহয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছে।

- Advertisement -

জমি মালিকদের দাবি, ফসলের জমি ছেড়ে দেওয়া হলেও বসত বাড়ি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাঁরা বাড়ি-ঘর খালি করেন নি। বরং, ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে একাধিক সরকারি দপ্তরের দারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট সহ সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জমি মালিকরা জানান।

জমি মালিক আব্দুল হাকিম ওরফে হীরালাল বলেন, হাইকোর্টে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বসত বাড়ি না ভাঙার আবেদন জানিয়ে আমরা জেলা শাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। পরে জেলাশাসক জেলা পুলিশ সুপার ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে পর্যালোচনার জন্য নির্দেশ দেন। এমনকি, ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে জলপাইগুড়ি ডিভিশনের আরবিট্রেশন, মালদা জেলা আদালত, কলকাতা হাইকোর্ট,সহ সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও গত শুক্রবার থেকে বসত বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়ি ভাঙা সহ মালপত্র সব কিছুই নিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পেশায় চিকিৎসক ইমদাদুল হক ও আব্দুল মালেকদের অভিযোগ, তাঁরা জমির ন্যায্যমূল্য পাননি। তারপরেও, বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলার জন্য তাঁরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে সময় চেয়েছিলেন। জমির সঠিক মূল্য নির্ধারণের জন্য মামলাও চলছে। তবুও কোনও কিছু না জানিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলেছে। মালপত্র, পরিবারের শিশু-বয়স্কদের নিয়ে লকডাউনের মাঝে কোয়ায় উঠবেন তা নিয়ে তাঁরা দিশেহারা। আমরা হঠাৎ এখন মালপত্র নিয়ে কোথায় যাব। সিদ্ধার্থ রায় নামে আরো এক ব্যবসায়ী সিদ্ধার্থ রায় বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে টাকা পেয়েছি। কিন্তু, নতুন করে ব্যবসার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পাইনি। তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছি। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

শনিবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের মালদা সাবডিভিশনের সহকারী বাস্তুকার তিমির বরণ সাহা বলেন, দু’বছর আগে জমিগুলো অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরনও পেয়ে গিয়েছেন। তারপরেও তাঁরা জায়গা খালি করছিলেন না। তাঁদের ছয় মাস আগে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাইকিং করা হয়েছে এলাকাতে। তাতেও তাঁরা কর্ণপাত করেননি। বাধ্যহয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু করেছে। তবে, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে মামলার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও নোটিশ আসেনি বলেও তিনি জানান।