নজরদারি নেই, একাধিক সরকারি কারখানা বন্ধ

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : শুধুমাত্র নজরদারির অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক কারখানা। বিশাল চত্বরে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। কাজ হারানো কর্মীদের মধ্যে যাঁদের খুঁটির জোর আছে তাঁরা বসে বসে মাইনে পান। বাকিরা কাজ হারানো শ্রমিক। অথচ এই কারখানাগুলি থেকে একসময় লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হত। মাদারিহাটে দপ্তরের এত সম্পত্তি পড়ে থেকে নষ্ট হলেও সেখানে একদিনের জন্য আসার সময় হয়নি বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহর।

১৯৭৯ সালে মাদারিহাটে সরকারি করাত কলের উদ্বোধনের দিন একই প্রাঙ্গণে চালু হয়েছিল পানমশলার জন্য খয়ের তৈরির কারখানা। কয়েক বছর বাদে সেই জায়গায় শুরু হয় কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কারখানা। প্রায় একইসঙ্গে সিট্রোনেলার মতো সুগন্ধি তৈরি শুরু হয় এখানে। সরকারি করাত কল তৈরির পর প্রচুর স্থানীয় মানুষ সেখানে কাজ পেয়েছিলেন। খয়ের তৈরির কারখানায় কাজ পেয়েছিলেন ৩২ জন। কিন্তু ১৯৯২ সালে হঠাৎ খয়ের কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। কাজ হারান সকলেই। কাজ হারানো কর্মীরাই জানান, এখানে তৈরি খয়ের কানপুর ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা হত বন উন্নয়ন নিগমের। কয়ের বছর পর এখানে কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কারখানা চালু হয়। এখানে তৈরি আসবাবপত্র জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ সহ জেলার প্রচুর সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও স্কুলে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। কিন্তু অজানা কারণে ২০১৫ সালে এই কারখানাটিও বন্ধ হয়ে যায়। কাজ হারান ২০ জন।

- Advertisement -

এরপর থেকেই গোটা চত্বর আস্তে আস্তে ধ্বংস্তূপের চেহারা নিতে থাকে। কাঠ চেরাই কলটি চালু থাকলেও বছরের পর বছর পড়ে থেকে বাকি কারখানার যন্ত্রপাতিগুলি এখন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে এখানে বর্তমানে ৩১ জন কর্মী রয়েছেন। কাজ না থাকায় তাঁরা কার্যত বসে থেকে বেতন পান। তাঁরাই জানালেন, মাঝে মাঝে সরকারি কিছু কাঠ চেরাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা চত্বর জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। কয়েকটি গাড়ি পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মূল্যবান কাঠের ঘরগুলি ভেঙে পড়ছে। একসময় এখানে একটি রেস্টহাউস ছিল। ২০০৯ সালে সেটি ভাঙা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, এখানে লজ তৈরি হবে। কিন্তু সেটাও হয়নি। এখানকার কর্মী থেকে শুরু করে মাদারিহাটের সাধারণ মানুষের আক্ষেপ, নর্থ খয়েরবাড়ি জঙ্গল লাগোয়া বন উন্নয়ন নিগমের প্রায় ১৫ বিঘা জমি রয়েছে এখানে। পর্যটকদের কাছে এই জায়গা আকর্ষণীয় হতে পারত। দপ্তরের এত সম্পত্তি এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ দায়িত্ব নেওয়ার পর চার বছরেও একদিনের জন্য বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান এখানে এলেন না।

এখানকার এক কর্মী বলেন, এক জায়গায় খয়ের তৈরির কারখানা, আসবাবপত্র তৈরির কারখানা, কাঠ চেরাই কল, সুগন্ধি তৈরির কারখানা এবং একটি রিসর্ট রাজ্যের আর কোথাও ছিল কি না জানি না। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, প্রত্যেকটি থেকে প্রচুর টাকা সরকারের আয় হত। কিন্তু শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে এতগুলো প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেল। শতাধিক কর্মীর মধ্যে যাঁদের খুঁটির জোর ছিল তাঁদের মধ্যে ২৯ জনকে চাকরিতে বহাল রেখে বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের খুঁটির জোর নেই তাঁরা কাজ হারিয়ে অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। আসবাবপত্র তৈরির কারখানার হেড মিস্ত্রি ছিলেন বলরাম সূত্রধর। তিনি বলেন, আমাদের হাতে তৈরি আসবাবপত্র দেশ-বিদেশে গিয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ২০ জন একসঙ্গে কাজ হারান। বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ বলেন, লকডাউনের কারণে কলকাতা যেতে পারছি না। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।