প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে একাধিক পোস্টার, অস্বস্তিতে বর্ধমানের বিজেপি নেতারা

136

বর্ধমান: বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার পর প্রায় দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার আগে রাজ্যের ২৯৪টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেছেন। তারপর থেকেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা। গত বুধবার বামফ্রন্টও তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে।এরপর থেকে বামেরাও জোরকদমে প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি এখনও রাজ্যের সমস্ত আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষনাই করতে পারেনি। তবে অবাক করার বিষয় বিজেপি তাঁদের প্রার্থীদের নাম এখনও ঘোষনা করতে না পারলেও প্রার্থী হওয়া নিয়ে বর্ধমানে বিজেপির কোন্দল পুরোদস্তুর জারি রয়েছে। যা নিয়ে বর্ধমানের বিজেপি শিবিরে শুরু হয়েছে পারস্পরিক চাপান-উতোর।

এদিন বর্ধমান আদালত চত্ত্বর সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন বিজেপির নেতা-নেত্রীর ছবি সহ নানা মন্তব্য লেখা পোস্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। কোনও পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে ‘এঁদের নয়, যাদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ, তাদের প্রার্থী করতে হবে।’ আবার অন্য পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘চরিত্রে দোষ, চোর-ডাকাত নয়। ধান্দাবাজ, চিটিংবাজ নয়। স্বচ্ছ্ব ভাবমূর্তির প্রার্থী চাই।’ এইসব পোস্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে যাওয়ার মাঝেই জেলার বিজেপির ‘বিক্ষুব্ধ’রা আবার এদিনই বৈঠক করে ঠিক করে ফেলেন জেলার ৯টি আসনে তাঁরা প্রার্থী দেবেন। সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা ঘোষনা না হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিজেপির আনেকে নানা মন্তব্য পোস্ট করে চলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দাবিও করা হয়েছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহল মনে করছে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর বিজেপি শিবিরের কোন্দল চরম পর্যায়ে পৌঁছোবে। বিজেপি সূত্রে অবশ্য খবর আগামী শুক্রবার নয়তো রবিবার বিকালে বিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে এই রাজ্যের সমস্ত আশনে তাঁদের প্রার্থীর নাম ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

- Advertisement -

এই বিষয়ে বর্ধমান সদর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, ‘পোস্টার মেরে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করা যাবে না। তাঁদের দলে বিক্ষুব্ধ বলে কিছু নেই। ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা হতেই পারে অনেকেরই। সেটা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার।’

যদিও তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাসের দাবি, ‘বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাত্রা ছাড়িয়েছে। তার জেরেই এই পোস্টার কাণ্ড।’