হায়দরাবাদ, ১৩ মেঃ চারে চার। চলতি আইপিএলে চতুর্থবার চেন্নাই বধের নজির গড়ে চার নম্বর আইপিএল খেতাব জিতে নিল মুম্বই। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ ওভারের শেষ বলে মাত্র ১ রানে দলকে জিতিয়ে মুম্বইয়ের নায়ক ইয়র্কার স্পেসালিস্ট লসিথ মালিঙ্গা। চেন্নাইয়ের হয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন ওয়াটসন। কিন্তু শেষ ল্যাপে তাঁকেও হার মানতে হল।

রবিবার নিজামের শহরে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।  দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং কুইন্টন ডি ককের ক্যাচ ধরেন ধোনি। ডি কক ফেরেন ‌১৭ বলে ২৯ রান করে এবং রোহিত ১৪ বলে ১৫ রান করে ধোনির পাতা ফাঁদে পা দেন। রোহিত–ডি কক ফিরে যাওয়ার পর ধোনির বারবার বোলার বদল, মুম্বইয়ের রানের গতি থমকে দেয়। ১৫ রানে সুর্যকুমার ও ২৩ রানে ইসান কিশণের উইকেট দু’টি তোলেন ইমরান তাহির। হতাশ করেন ফর্মে থাকা ক্রুনালও (৭)। এরপর ক্যারিবিয়ান দৈত্য কিয়েরন পোলার্ডের ৪১ এবং হার্দিক পান্ডিয়ার ১৬ রানের ওপর ভর করে ২০ ওভারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের রান দাঁড়ায় ১৪৯/৮। পাশাপাশি এদিন মুম্বই ইনিংসের শেষ ওভারে নিশ্চিত ওয়াইড বল না ডেকে বিতর্কে জড়ালেন ভারতীয় আম্পায়ার নীতিন মেনন। আম্পায়ারের বিরুদ্ধে হতাশা প্রকাশ করতে অফস্টাম্পের অনেকটা বাইরে স্টান্স নিয়ে সেই বিতর্ক আরও উসকে দেন মুম্বইয়ের ভাইস ক্যাপটেন কিয়েরন পোলার্ড।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য ১৪৯ রান খুব একটা কঠিন ছিল বলে সারা ম্যাচে কখনোই মনে হয়নি। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালই করেছিলেন ডু প্লেসিস এবং শেন ওয়াটসন। প্রায় দশের কাছাকাছি রানরেট ছিল চেন্নাইয়ের। কিন্তু ক্রুনালের ওভারে ১৩ বলে ২৬ রান করে ডু প্লেসিস ফিরতেই ম্যাচে ফেরে মুম্বই। পর পর প্যাভিলিয়নে ফেরেন রায়না (৮), রায়াডু (১), ধোনি (২) ও ব্রাভো (১৫)। উল্টোদিকে একাই চেষ্টা চালিয়ে যান ওয়াটসন (৮০)। ইনিংসের ১৮ তম ওভারে ক্রুনালের ওভারে তিনটে ছয় মেরে দলকে জয়ের দিকে আরও এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু ১৯ তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন বুমরাহ। যদিও ওই ওভারের শেষ বলে উইকেট কিপার ডি’‌ককের ভুলে চার রান বাই পায় চেন্নাই। শেষ ওভার করতে আসেন লাসিথ মালিঙ্গা। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান। ওই ওভারের প্রথম তিন বলে আসে ৪ রান। চতুর্থ বলে দু’‌রান নিতে গিয়ে রানআউট হন ওয়াটসন। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু মালিঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ আউট হন শার্দূল ঠাকুর। ২০ ওভারে ১৪৮ রানে থেমে যায় চেন্নাইয়ের ইনিংস। মুম্বইয়ের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেন জসপ্রীত বুমরাহ। তিনি ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ২টি ‌উইকেট নেন ।

অরেঞ্জ ক্যাপ- ডেভিড ওয়ার্নার (৬৯২ রান)

পার্পল ক্যাপ- ইমরান তাহির (২৬ উইকেট)

মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার- আন্দ্রে রাসেল

এমার্জিং প্লেয়ার- শুভমান গিল

ফাইনালের সেরা- জসপ্রীত বুমরাহ