খুনের অভিযোগে জনরোষ, পুড়ল মৃতের বন্ধুর বাড়ি

348

বর্ধমান, ২০ ডিসেম্বরঃ দু’দিন ধরে নিখোঁজ থাকা যুবকের মৃতদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার হতেই রোষের আগুনে পুড়ল তাঁর বন্ধুর বাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার দুর্গাপুর পঞ্চায়েতের সিমলা গ্রামে। মৃত যুবকের নাম মানিক টুডু (২৭)। সে কলকাতার ময়দানে ফুটবল খেলত। শনিবার রাতে সিমলা এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই ফুটবল খেলোয়াড় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনা জানাজানি হতেই শনিবার রাত থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিমলা গ্রাম। খবর পেয়েই মৃতের এক বন্ধু উত্তম রায় নিজের বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। রাতেই উত্তমের বাড়িতে জনরোষ আছড়ে পড়ে। স্থানীয়রা মানিক টুডুর বন্ধু উত্তমের বাড়িতে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রবিবার এলাকার বিজেপি নেতারা আবার আসরে নেমে পড়েন। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে মানিক টুডুর মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই বিজেপির লোকজন সৎকার্য করতে বাধা দেন। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, যুব ফুটবলার মানিক টুডুকে খুন করেছে তৃণমূলের লোকজন। পুলিশ বিক্ষোভ সামাল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত আটটা বেজে যায়। তারপর মৃতদেহ সৎকার্যের প্রস্তুতি শুরু হয়।

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে উত্তম রায়ের টোটোয় চেপে মানিককে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। মৃতের মা পূর্ণিমা দেবীর অভিযোগ, উত্তমের সঙ্গে টোটোতে চেপে বৃহস্পতিবার মানিক দিনরাত ঘুরেছে। ওই রাতে মানিক বাড়ি ফেরেনি। শুক্রবার সকালেও বাড়ি ফেরেনি ছেলে। পরিবারের লোকজন মানিকের বিষয়ে উত্তমকে জানতেই চায়। সে জানিয়েছিল, মানিককে বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়ে সে ওই রাতে চলে গিয়েছিল। এরপর শনিবার রাতে বাড়ির অদূরের একটি পুকুর থেকে মানিক টুডুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

মৃতের দাদা বাবুরাম টুডু দাবি করেন, পুকুরের পাঁকে মুখ গোঁজা অবস্থায় পড়ে ছিল তাঁর ভাইয়ের দেহ। দেহে আঘাতের চিহ্নও ছিল। এই সব দেখে তাঁরা মনে করছেন খুন করে মানিকের দেহ পুকুরে ফেলে দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে। মানিকের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে পরিবারের লোকজন থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর।