মুর্শিদাবাদ, ১০ সেপ্টেম্বরঃ তৃণমূলের নেতা খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে মুর্শিদাবাদের নওদা থানার বালি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বালি তৃণমূলের কার্যালয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম নিমাই মণ্ডল (৫৫)। নিমাই মণ্ডল বালি বালি গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্য এবং পেশায় গোঘাটা প্রাইমারি স্কুলের সহকারি শিক্ষক।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে নিমাইবাবু কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর কর্মীরা সেখান থেকে চলে গেলে তিনি যাবেন বলে বেরিয়ে আসছিলেন। সেই সময় দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় নওদা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের তৃণমূলের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘নিমাইবাবু আমাদের সংগঠনের একজন ভালো কর্মী ছিলেন। তাঁর কাজের জন্য এলাকাতে আমাদের ভালো সংগঠন গড়ে উঠেছিল। তাঁর জন্য গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি ও কংগ্রেস খুব চাপে ছিল। কংগ্রেসের গুণ্ডাবাহিনী তাঁকে খুন করেছে।’ এই বিষয়ে নিমাইবাবুর পরিবারের দাবি, তৃণমূলের নেতাদের কথাতেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। বিজেপির উত্তর মুর্শিদাবাদের সভাপতি গৌরি শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘তাদের নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোলের জেরে এই খুন। কিন্তু এখন কোথাও কিছু হলে তারা সমস্ত দোষ আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে।’ এই বিষয়ে তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র অশোক দাস বলেন, ‘এই  খুন অধীর সিন্ডিকেট করিয়েছে। প্রশাসনকে বলা হয়েছে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করার জন্য।’ বহরমপুরের সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী জানান, ‘এই খুন কি কারণে তা সবাই জানে। নিজেদের মধ্যে টাকার ভাগ নিয়ে মারামারি করে কাউকে খুন করে আমাদের উপর দোষ চাপানোটা তৃণমূলের একটি নীতিতে পরিণত হয়েছে।’ এই বিষয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ জানিয়েছেন, গতকাল রাতে নওদাতে তৃণমূলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নিমাই মণ্ডল খুন হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরে আরও একজনকে আটক করা হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।