অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবি প্রৌঢ়কে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য

119

বর্ধমান, ৯ মার্চঃ সকালে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে ঢোকার পর, রাতে নিজের বাড়িতে এক প্রৌঢ় খুন হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মঙ্গলবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার রায়না পোস্ট অফিস পাড়ায় উঁচু পাঁচিল ঘেরা দোতলা বাড়ির একতলার ঘরে জীবন কানই সেনগুপ্ত (৭৫) খুন হয়েছেন। তিনি দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান সহ রায়না থানার পুলিশ কর্তারা মৃতের বাড়িতে পৌঁছান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রৌঢ়কে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্তারাই একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছন। মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি, পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। খুনিদের খোঁজে পুলিশ জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছে , প্রথমিকভাবে খুনের ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। মৃতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বুধবার ব্যক্তির মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়নার পোস্ট অফিস পাড়ার বাড়িতেই থাকতেন জীবন কানাই সেনগুপ্ত। তিনি একটি স্টিল প্ল্যান্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। অসুস্থ স্ত্রী মঞ্জুদেবীকে নিয়ে বাড়ির একতলায় থাকতেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য মঞ্জুদেবী
বহু আগেই হাঁটাচলার শক্তি হারিয়েছেন। তাঁদের দুই মেয়ের বিয়েও অনেকদিন আগে হয়েছে। বাড়ির অন্য ঘরে জীবন কানাই বাবুর বিধবা বৌদি সুতপা দেবী থাকেন। সুতপা দেবীর কথায় এদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ
অস্বাভাবিক একটা অওয়াজ শোনার পর তিনি তাঁর দেওরের ঘরে যান। তখনই দেখেন ঘরে খাটের পাশে তাঁর দেওরের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওঠা বসার শক্তি হারিয়ে ফেলা তাঁর জা মঞ্জুদেবী তখনও মশারি টাঙানো বিছানাতেই শুয়ে ছিলেন। সুতপাদেবী বলেন, এমন ঘটনা দেখেই তিনি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের বাড়িতে ছুঁটে আসেন। তাঁরাই নিজের চোখে সব কিছু দেখে, রায়না থানায় খবর দিয়েছিলেন। মৃতর দুই প্রতিবেশী অনুপ দাঁ ও সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন , জীবন কানাই বাবুর বৌদির চিৎকার শুনে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

- Advertisement -

অনুপ বাবু এবং সঞ্জয় বাবুর মন্তব্য অনুযায়ী, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবন কানাই বাবুর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়েছিল। পাশেই একটি শাবলও ছিল। মৃতদেহের পাশেই মাশারি টাঙানো খাটে বিছানায় শুয়ে ছিলেন রোগভোগে পঙ্গু হয়ে যাওয়া জীবন কানাই বাবুর বৃদ্ধা স্ত্রী। অনুপ বাবু আরও বলেন , জীবন কানাই বাবু অতীব ভদ্র ব্যক্তি ছিলেন। এলাকার কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিবাদ কিংবা অশান্তি ছিল না। এদিনই দুপুর বেলা রায়নার শ্যামসুন্দরের স্টেট ব্যাংক টাকা তুলতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সেই টাকা হাতাতে এসেই দুষ্কৃতীরা ওই প্রৌঢ়কে প্রাণে হত্যা করে পালিয়ে গেল কিনা সেই প্রশ্নই এখন প্রতিবেশীদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও, পুুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নানা ধরণের নমুনা সংগ্রহ করেছে। খুনের ঘটনায় কারা জড়িত সেবিষয়টি পুলিশের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।