গঙ্গা-পদ্মায় বাড়ছে জল, প্লাবিত মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশ

170

মুর্শিদাবাদ: ঝাড়খণ্ড এবং বিহারে বন্যা পরিস্থিতির জন্য কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত জলস্তর বাড়ছে গঙ্গায়। ফারাক্কা ব্যারেজের ক্যাচমেন্ট এলাকায় জলস্তর বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’দিন আগে ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। জল গঙ্গা এবং পদ্মা নদীতে প্রবাহিত হতে শুরু করায় শুক্রবার থেকে প্লাবিত হতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশ। এদিকে শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির বিশেষ কোনও উন্নতি হয়নি।

ফারাক্কা ব্লকে প্লাবিত রয়েছে কুলিদিয়ার, চর সুজাপুর, অর্জুনপুর, হোসেনপুর, মহেশপুর, বেনিয়াগ্রাম, মহাদেবনগর সহ আরও বহু এলাকা। গতকাল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের উদ্যোগে কুলিদিয়ার এবং পারসুজাপুরে প্রায় ২০০ পরিবারকে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। এদিন ফারাক্কার তৃণমূল নেতা বাবলু ঘোষকে নিয়ে হোসেনপুরে ত্রাণ দেন বিধায়ক।

- Advertisement -

জল ঢুকতে শুরু করেছে বিএসএফ ক্যাম্পেও। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের ফিরোজপুর চর সহ পদ্মা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। বাহুরাতে বিএসএফের ৭৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিওপি ক্যাম্প জলমগ্ন। তার ফলে ক্যাম্প ছেড়ে স্কুলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বিএসএফ কর্মীরা। পদ্মার জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে সম্মতিনগর, বড়শিমুল এবং তেঘরি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশকিছু গ্রাম। সেখানে প্রায় এক হাজার জলবন্দি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় পদ্মা এবং গঙ্গা নদীর মধ্যে দূরত্ব কমে দেড় কিলোমিটার হয়ে গিয়েছে। দুটি নদী মিলে গেলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামের পর গ্রাম ডুবলেও পর্যাপ্ত ত্রাণ তাঁরা পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আকরুজ্জামান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এলাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহকুমা এবং ব্লক স্তর থেকে এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা-২ ব্লকেও। এই ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নির্মলচরের কালুর মোর, চাঁইপাড়া, চর হাজিপাড়া সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, পদ্মার জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে জলঙ্গির বামনাবাদ, চর উদয় নগর কলোনি, লালকুপ চর, টলটলি চর, পরাশপুর চর সহ বিভিন্ন এলাকা।