নয়ারহাট, ২১ সেপ্টেম্বর : ভাওয়াইয়া সংগীত তাঁর রক্তে। এই সংগীত তাঁর সাধনাও। এই সংগীত পরিবেশন করে অনেক সুনামও কুড়িয়েছেন তিনি। তাঁর ভাগ্যে জুটেছে রাজ্য সরকারের দেওয়া শিল্পীভাতাও। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও এই সংগীতের তালিম দেওয়ার জন্য নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি শিক্ষাকেন্দ্র। কয়েকবছর ধরে সেখানে নিখরচায় ভাওয়াইয়া সংগীতের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নলঙ্গিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিকাশ বর্মন। পথভোলা পথিকও যেন থমকে দাঁড়ায় তাঁদের ভাওয়াইয়ার সুরে আর দোতারার ডাঙয়ে। কিন্তু অর্থাভাবে এখনও বিকাশবাবু তাঁর সাধের সেই সংগীতচর্চা কেন্দ্রের পরিকাঠামোর উন্নয়ন করতে পারেননি। তাই এখনও অন্যের বাড়িতে রয়েছে সংগীতচর্চা কেন্দ্রটি। সংগীতচর্চা কেন্দ্রের পরিকাঠামো তৈরির আবেদন জানিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। এ নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও যতদিন বাঁচবেন ভাওয়াইয়া সংগীতের প্রসারে কাজ করে যাবেন- বলেন প্রত্যয়ী বিকাশবাবু।

বর্তমানে চেনাকাটা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে চলছে ওই কেন্দ্রটি। পরিকাঠামোহীন এই সংগীতচর্চা কেন্দ্র ইতিমধ্যেই কয়েকজন ভালো শিল্পীও উপহার দিয়েছে। সেখানকার ছাত্রী ভাস্বতী বর্মন বছর দুয়েক আগে রাজ্য ভাওয়াইয়া প্রতিযোগিতায় ছিনিয়ে নিয়েছে সেরার শিরোপা। এখান থেকেই উঠে এসেছেন নমিতা সরকারের মতো নামি ভাওয়াইয়া ও পদাবলিকীর্তন শিল্পী। রঞ্জনা বর্মন, অপর্ণা বর্মনরাও এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। এখানকার শিল্পীদের নিয়ে ভাওয়াইয়া গানের অ্যালবামও বের হয়েছে। এই সংগীতশিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে উঠলে এই শিক্ষাকেন্দ্র ভাওয়াইয়া সংগীতকে নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন সংগীতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই। বিকাশবাবুর স্বপ্ন, তাঁর জীবদ্দশায় শিক্ষাকেন্দ্রের পরিকাঠামোর উন্নয়ন হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ হবে কিনা সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিকাশবাবু জানান, বাবা ভবকান্ত বর্মনের হাতেই তাঁর ভাওয়াইয়া সংগীতের হাতেখড়ি। তারপর শ্যামাপ্রসাদ বর্মন, বরদাপ্রসাদ বর্মন, জালালউদ্দিন মুন্সির মতো নামকরা শিল্পীদের কাছে তিনি ভাওয়াইয়া সংগীতের তালিম নিয়েছেন। সংগীতে বেশ নামডাক করলেও কখনও আর্থিক সচ্ছলতা আসেনি। নিজের সামান্য জমিতে আবাদ এবং সরকারের দেওয়া মাসিক হাজার টাকা ভাতায় কোনোরকমে তাঁর সংসার চলে। তবু, সংগীতকে আঁকড়ে ধরে তিনি কাটিয়ে দিতে চান জীবনের বাকি দিনগুলি। নবীন প্রজন্মকেও তিনি টেনে আনছেন এই সুরের নেশায়।

- Advertisement -