শমিদীপ দত্ত  শিলিগুড়ি : দেবীবরণের মালার পসরা নিয়ে এখন দম ফেলার সময় নেই মহম্মদ সাগির, আজিম, শামসেরদের। ওঁদের হাতের ছোঁয়া ছাড়া শিলিগুড়ির পুজো যেন ঠিক জমে না। মনে হয়, কোথায় যেন খামতি থেকে গেল। ওঁরা দেবীবরণের মালার কারিগর। পুজোর সঙ্গে মালার নিবিড় সম্পর্ক। পুজোর মরশুম আসতেই কদর বেড়ে যায় মালার। শহরে মালার এই চাহিদা বাড়ার সঙ্গেই সারাবছরের ধারদেনা মেটানোর আশায় ওঁরা শহরে এসে হাজির হন। পুজোর মরশুম আসতেই সেজে উঠেছে শহর। দশকর্মা ভাণ্ডারগুলি কাগজ, কাপড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মালায় সেজে উঠেছে। এর মধ্যেই কোনো সময়ে চম্পাসারি মোড়, কোনো সময়ে হিলকার্ট রোডে বাঁশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মালা সাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে সাগির, আজিম, শামসেরদের। শামসেরদের বাড়ি বিহারের মুজফ্ফরপুরে। গ্রামের কথা মনে করে শামসের বলেন, গ্রামে আমরা দশটি পরিবার বংশপরম্পরায় ঠাকুরের এই মালা তৈরির কাজ করি। এই পুজোর মরশুমের উপরই আমরা ভরসা করে থাকি। শামসেরের প্রতিবেশী মহম্মদ সাগির বলেন, আমরা তিন পুরুষ ধরে এই শহরে আসি। বলতে গেলে সারাবছর ধারদেনা মেটানোর অবলম্বন শহর শিলিগুড়ি। তবে এই কাজ সহজ নয়।  অনেকে ধর্মীয় কারণে আমাদের কাছ থেকে মালা কিনতে চান না। অনেকে মালা কিনতে এলেও আমাদের দেখে চলে যান। কথার  মাঝেই  সাগিরদের মালা দৃষ্টি আকর্ষণ করায় দরদাম করতে এলেন শহরের বাসিন্দা অনিকেত দাস। বললেন, ওঁদের মালা আমার সত্যিই খুব ভালো লাগল। শিল্পসত্ত্বার কাছে জাত-ধর্মের কোনো জায়গা নেই। শুনে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে মহম্মদ সাগির বলে উঠলেন, শহরবাসীর একাংশের এই ভালোবাসার জন্য আমরা প্রতি বছর অনেক আশা নিয়ে পুজোর মরশুমে এখানে আসি। পেটের জ্বালার সামনে ঠাকুর-দেবতার কোনো ভেদাভেদ থাকে না।