১৮-এর নীচে মেয়েদের বিয়ের অনুমতি হাইকোর্টের

137

চন্ডিগড়: ফের বড় রায় পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের। কোনও মুসলিম মেয়ে সাবালিকা না হলেও তাঁর বিবাহ বৈধ বলে হাইকোর্টের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়। মুসলিম দম্পতির সুরক্ষা সম্পর্কিত একটি আবেদনের শুনানি চলাকালীন বুধবার হাইকোর্ট এই মন্তব্য করেছেন।

আবেদনকারী অলকা সারিন জানান, তাঁরা চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে বিয়ে করেন। সে সময় তাঁর স্বামীর বয়স ৩৬ বছর ও তাঁর বয়স ১৭ বছর ছিল। সমস্ত মুসলিম রীতি মেনে তাঁরা বিয়ে করেন। কিন্তু তারপর থেকে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিয়ের পরে দু’জনেই সুরক্ষার জন্য মোহালির এসএসপির কাছেও যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসএসপির ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবেদনকারীদের হাইকোর্টের আশ্রয় নিতে হয়।আর এদিন ছিল সেই দম্পতির জনস্বার্থ মামলার আবেদনের শুনানি।

- Advertisement -

এই আবেদনের বিষয়ে হাইকোর্ট বলে, মুসলিম দম্পতির ক্ষেত্রে বিয়ের জন্য মেয়েটির প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। মেয়েটি যদি নাবালিকা হয় তবে কে তাঁর সঙ্গে জীবন কাটাবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁর। সংবিধান তাকে অবাধে বেঁচে থাকার এবং প্রিয় জীবনসঙ্গী বাছাই করার অধিকার দেয়। এদিন হাইকোর্ট মোহালির এসএসপিকে ওই দম্পতির নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং তাদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মুসলিম পার্সোনাল ল’য়ের ১৯৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বয়ঃসন্ধিকালীন প্রতিটি (মুসলিম) বিবাহের চুক্তিতে প্রবেশ করতে পারে। নাবালিকা যারা বয়ঃসন্ধি অর্জন করেননি তাদের নিজ নিজ অভিভাবকরা বৈধতার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে দিতে পারেন। যদি তাঁর সম্মতি ব্যতিরেকে গৃহীত হয় তবে মুসলিম বিয়ে (যিনি) সুবুদ্ধি এবং বয়ঃসন্ধি লাভ করেছেন তা বাতিল বলে গণ্য করা হবে।‘ এরপরই আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারে যে মেয়েটির বয়স ১৭ বছরের বেশি। তাঁর (বয়স্ক ব্যক্তির সাথে) পছন্দসই ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহের চুক্তি করতে সক্ষম ছিল কারণ উভয় আবেদনকারীই মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুসারে বিবাহযোগ্য।