বাবরি রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাবে মুসলিম সংগঠন

613

লখনউ: অযোধ্যার সেই বহুবিতর্কিত স্থলে ২৮ বছর আগে বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বুধবার বেকসুর খালাস হয়ে গেলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশী, উমা ভারতী-সহ সব অভিযুক্ত। লখনউ-এর বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারকের রায়, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। গোটাটাই ‘হঠাৎ ঘটে যাওয়া’ স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের ফল। ঘটনায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ছিল ৪৯। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩২ জনের সে দিনের ভূমিকায় কোনও অপরাধ খুঁজে পায়নি আদালত। উল্টে ভাঙচুরের ঘটনা এঁরা আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও বলা হয়েছে রায়ে।

কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। এ কথা জানান, বোর্ডের সদস্য তথা বরিষ্ঠ আইনজীবী জাফারইয়াব জিলানি। এদিন জিলানি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন কীভাবে অভিযুক্তরা মঞ্চ থেকে উস্কানিমূলক ভাষণ দিচ্ছিলেন বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার দিন। আইপিএস অফিসার ও সাংবাদিকরা বয়ান দিয়ছিলেন। জিলানির দাবি, বিশেষ সিবিআই কোর্ট তথ্য প্রমাণকে উপেক্ষা করে রায় দিয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে মুসলমানরা আপিল করবে। জিলানি বলেন, বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের ছেড়ে দেওয়া হল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী মুসলমানরা আপিলে যাবেন। প্রয়োজনে মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এই মামলায় পার্টি হবে বলে জানান তিনি।

- Advertisement -

এদিকে এদিনের রায়ের পেক্ষিতে পরাজিত সিবিআই এখনও ঠিক করেনি তারা নতুন করে আপিলে যাবে কিনা। সিবিআইয়ের কৌঁসুলী ললিত সিং বলেন, আদালতের রায় খুঁটিয়ে পড়ার পরেই নতুন সিদ্ধান্ত নেবে তদন্তকারী সংস্থার উচ্চকর্তারা। লিগাল টিমের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করা হবে।