ছটপুজোয় শামিল মুসলিম মহিলারাও

রেজাউল হক, পুরাতন মালদা : শ্বশুরবাড়ির পুরোনো নিয়ম মেনেই ছটপুজোয় শামিল হয় পুরাতন মালদা পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ে কয়েকটি পরিবার। এর মধ্যে সাতটি পরিবারের মহিলা সদস্যরা শ্বশুরবাড়ির পূর্বপুরুষদের নিয়ম মেনে হিন্দুদের সঙ্গে ছটপুজোয় শামিল হন। যদিও এই পরিবারগুলির নদীর জলে নেমে সূর্যদেবতার আরাধনা করার প্রথা রয়েছে। কিন্তু সব বিধি মানলেও নদীতে নামেন না ওই পরিবারগুলির মুসলিম মহিলা সদস্যরা। তবে ছটপুজো ঘিরে পুরাতন মালদায় সম্প্রীতির এ এক অনন্য নজির।

তুঁতবাড়ি এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ে কয়েকটি পরিবার অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে শামিল হয়ে নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে পুজো পালন করেছেন। ডালি এবং কুলোতে ফল সাজিয়ে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে অর্পণ করেন তাঁরা। পাশাপাশি, তিনদিন ধরে যে নিরামিষ আহার খেয়ে একাধিক প্রথা পালন করতে হয়, সেসবও মেনে চলেন এই পরিবারগুলির মহিলারা। তাঁদের বক্তব্য, পরিবারের মঙ্গলকামনায় এই পুজোয় তাঁরা শমিল হয়েছেন। আগে তাঁরা এই পুজো করতেন না। কিন্তু পুজো বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারের চরম ক্ষতি হয়েছিল। তাই ফের এই পুজো করে তাঁরা পরিবারের সুখ ও শান্তি কামনা করছেন।

- Advertisement -

এদিন ছটপুজোয় শামিল হওয়া শাহানারা বিবি, রুবিনা বেওয়া বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর। শ্বশুরবাড়িতে আসার পর থেকেই এই পুজোয় আমরা শামিল হয়েছি। এই পুজো করে পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় রয়েছে। ফলও পেয়েছি অনেকেই। কিন্তু একসময় এই পুজোয় শামিল না হওয়ায় পরিবারের ক্ষতি হয়েছিল। তাই শ্বশুরবাড়ির নিয়ম মেনে ছটপুজো করে যাচ্ছি। এলাকার এক যাদব পরিবারের সঙ্গে শামিল হয়ে আমরা এই পুজো করি। তবে আমরা নদীতে নামি না।

তুঁতবাড়ি এলাকার যাদব পরিবারের এক সদস্য সুলেখা যাদব বলেন, সবকিছুর ওপর রয়েছে বিশ্বাস ও ভক্তি। এলাকার কয়েকটি মুসলিম পরিবার আমাদের সঙ্গে ছটপুজোয় শামিল হয়। প্রতিবছর তারা ঠাকুরের জন্য ফল ও প্রসাদ ডালি ও কুলোতে সাজিয়ে দেয়। ওই পরিবারগুলির মহিলারা আমাদের সঙ্গে নদীতেও যান। দাঁড়িয়ে পুজো দেখেন। এভাবেই এখানে ছটপুজো হয়ে আসছে। এই পুজোর মাধ্যমে সবার মঙ্গলকামনা করা হয়।