করোনা গুজব, ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের সৎকার করলেন মুসলিমরা

802

বর্ধমান:করোনা আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও স্বজনরা কেউ এগিয়ে আসেননি হিন্দু পরিবারের বৃদ্ধর মৃতদেহ সৎকার করতে। এই পরিস্থিতিতে তিন দিন ধরে পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে পড়েছিল অশীতিপর বৃদ্ধ সন্তোষ ঘোষালের মৃতদেহ। মন্তেশ্বরের মামুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্রাহ্মণ বৃদ্ধর এমন করুণ পরিণতি মেনেনিতে পারেননি পাশের গ্রামের মুসলিম মানুষজন। এলাকার যুবক ফরিয়াদ মল্লিক ও তাঁর সতীর্থরা মৃতর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার পৌঁছে যান কালনা হাসপাতাল মর্গে। সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে এসে হিন্দু শাস্ত্র মতে তারা গ্রামের শ্মশানে ব্রাহ্মন বৃদ্ধের দেহ সৎকার সারেন। মুসলিম যুবকদের এমন মহানুভবতার তারিফ করেছেন আপামোর মন্তেশ্বরবাসী।

মৃতর মেয়ে মণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, তাঁর সত্তরোর্ধ্ব বাবা সন্তোষ ঘোষাল কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগে তাঁর শারীরিক অসুস্থতা বাড়ে। ওই দিন তাঁরা সন্তোষ বাবুকে মন্তেশ্বর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্রে নিয়েযান। চিকিৎসা শুরুর আগে করোনা পরীক্ষার জন্য সেখানে সন্তোষবাবুর লালার নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসক। সন্তোষবাবুর স্ত্রী ও কন্যা অভিযোগ করেছেন, রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হাসপাতালে কোন চিকিৎসাই হয় নি। এ কারণে কার্যত বিনা চিকিৎসায় সন্তোষ বাবুর মৃত্যু হয়। তার পর পিপি কিট পরিয়ে মৃতদেহ পাঠিয়ে দেওয়া কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে। তারই মধ্যে কেউ গ্রামে রটিয়ে দেয় করোনা আক্রান্ত হয়ে সন্তোষ বাবুর মৃত্যু হয়েছে। যা নিয়ে সকলের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এমনকী, করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও স্বজনরা ও গ্রামের লোকজন মুখ ফিরিয়ে নেয়। কালনা হাসপাতাল মর্গেই তিন দিন ধরে মৃতদেহ পড়ে থাকে। মণিকা দেবী বলেন, এদিন পাশের গ্রামের ফরিয়াদ মল্লিক সহ অপর মুসলিম ভাই ও দাদারা এদিন এগিয়ে আসায় তিনি তাঁর বাবার দেহ সৎকার্য সম্পন্ন করতে সক্ষম হলেন।

- Advertisement -

ফরিয়াদ বলেন, করোনা আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও এক হিন্দু ব্রাহ্মন বৃদ্ধের দেহ সৎকারে কেউ এগিয়ে আসছে না। ঘটনাটি ব্যাথিত করেছিল। তাই ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের সৎকার্যের দায়িত্ব তাঁরা কাঁধে তুলে নেন। হিন্দু শাস্ত্র মতেই বৃদ্ধের সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।