ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের দেহ শ্মশানে নিয়ে গেলেন মুসলিমরা

বর্ধমান : করোনা সংক্রামিত না হওয়া সত্ত্বেও স্বজনরা হিন্দু পরিবারের এক বৃদ্ধের দেহ সৎকারে এগিয়ে আসেননি। এই পরিস্থিতিতে তিনদিন ধরে পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে পড়েছিল অশীতিপর বৃদ্ধ সন্তোষ ঘোষালের মৃতদেহ। মন্তেশ্বরের মামুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের পরিবারের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারেননি পাশের গ্রামের যুবক ফরিয়াদ মল্লিক ও তাঁর সতীর্থরা। তাই মঙ্গলবার মৃতের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে কালনা হাসপাতালে যান ফরিয়াদ মল্লিক ও তাঁর সতীর্থরা। সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে গ্রামের শ্মশানে আসেন ও হিন্দু শাস্ত্রমতে দেহ সৎকার করেন।

মৃতের মেয়ে মণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাবা কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মন্তেশ্বর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে প্রথমে বাবার লালা সংগ্রহ করা হয়। রিপোর্ট আসার আগে কোনও চিকিৎসাই হয়নি। কার্যত বিনা চিকিৎসায় বাবার মৃত্যু হয়েছে। এরপর পিপিই কিট পরিয়ে মৃতদেহ কালনা মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে কেউ গ্রামে রটিয়ে দেয় করোনা সংক্রামিত হয়ে বাবার মৃত্যু হয়েছে। যা নিয়ে সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। মঙ্গলবার বাবার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবুও কোনও আত্মীয় বা গ্রামের কেউ দেহ সৎকারে এগিয়ে আসেননি।

- Advertisement -

তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পাশের গ্রাম থেকে ফরিয়াদ মল্লিক ও তাঁর বন্ধুরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা না থাকলে বাবার দেহ সৎকার করতে পারতাম না। তাঁদের ধন্যবাদ জানানো অনেক কম হবে। ফরিয়াদ মল্লিক বলেন, করোনা সংক্রামিত না হওয়া সত্ত্বেও এক হিন্দু ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের দেহ সৎকারে কেউ এগিয়ে আসছে না এটা জানতে পেরে খুব দুঃখ হয়েছিল। তাই ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের সৎকারের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিই। হিন্দু শাস্ত্রমতেই বৃদ্ধের দেহ সৎকার করা হয়েছে।