সংকটে মধ্যবিত্ত, সর্ষের তেলের দাম বেড়ে ১৫০ টাকা

775

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো : করোনা পরিস্থিতির জেরে রোজকে রোজই জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। সম্প্রতি সবজির দাম অনেকটাই আকাশছোঁয়া হয়েছিল। সেই দাম বর্তমানে কিছুটা কমলেও তুলনামূলকভাবে এখনও অনেকটাই বেশি। বাজেটে অভ্যস্ত মধ্যবিত্ত মাসের কেনাকাটায় অনেকটাই কাটছাঁটে বাধ্য হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা অনেক সময়ই ভাতে আলুসেদ্ধ চটকে সর্ষের তেল আর কাঁচালংকা ডলে খাই। এবারে অবশ্য যা পরিস্থিতি তাতে এই মামুলি খাওয়াটাও ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার উপক্রম। রোজকার রান্নায় অপরিহার্য আলু কেজি প্রতি ৫০ টাকার দাম ছাপিয়ে আরও এগিয়ে চলেছে। কাঁচালংকা ১৫০ টাকা কেজি। এই মেনুতে চাল বাদ দিয়ে বাকি থাকল সর্ষের তেল। সেই সর্ষের তেলও এখন মহার্ঘ। উত্তরবঙ্গে লিটারপ্রতি গড়ে ১৫০ টাকায় সর্ষের তেল বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ভোজ্যতেলের দামও ক্রমশই ঊর্ধ্বগামী। পরিস্থিতির জেরে রোজকার রান্নাও মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে যেতে বসার জোগাড়।

বছরখানেক আগেও শিলিগুড়িতে যে সমস্ত সর্ষের তেলের দাম লিটারে ১০০ টাকা ছিল, এখন তা বেড়ে ১৪০-১৫০ টাকা হয়েছে। সয়া তেলের ১২৫-১২৮ টাকা লিটার। এভাবে তেলের দাম বেড়ে চলায় বাসিন্দারা খুবই ক্ষুব্ধ। তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু করতে চলেছে। নর্থবেঙ্গল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আয়ুষ টিব্রুয়াল বলেন, সরকার তেলের আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় সমস্যা বাড়ছে। পাশাপাশি এবার বৃষ্টির জেরে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে সর্ষে উৎপাদন খুবই কম হয়েছে। সেই কারণেও এই সমস্যা। শিলিগুড়ির পাইকারি বাজারে সর্ষের তেল প্রতি লিটার ১১৫-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ জানাই। জলপাইগুড়িতেও সর্ষের তেলের দাম লিটারে ১৪০-১৫০ টাকা। পরিশুদ্ধ সাদা ভোজ্য তেল লিটারে ১১৫-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তৃণমূলের জলপাইগুড়ির কোঅর্ডিনেটর  চন্দন ভৌমিক বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়ার পিছনে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক কৃষিনীতিই দায়ী। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, নতুন আইনে কৃষকদের সুবিধা হয়েছে। কিন্তু কিছু ফড়ের জন্যই ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে।

- Advertisement -

কোচবিহার শহরে বর্তমানে সর্ষের তেলের দাম লিটারে ১৪০-১৫৫ টাকা। মাসখানেক আগে এই দাম ১২০-১৩৫ টাকা ছিল। চার-পাঁচ মাস আগে শহরে এই তেলের দাম ছিল ১০০-১১০ টাকা ছিল। কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চাঁদমোহন সাহা বলেন, যে সব অঞ্চলে সর্ষে হয় সেখানে বৃষ্টিতে বহু এলাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে সমস্যা হচ্ছে। মাস তিনেক আগে তুফানগঞ্জে সর্ষের তেলের দাম লিটারে ১২০ টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ১৪০ টাকা হয়েছে। তুফানগঞ্জ শহরের মুদি ব্যবসায়ী অরিন্দম পাল বলেন, সর্ষে এখন প্রায় শেষের দিকে। সর্ষের উত্পাদন শুরু হলে তেলের দাম কমতে পারে। তিন মাস আগে দিনহাটায় ১০০ টাকা দাম হলেও বর্তমানে সর্ষের তেল লিটারপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী তথা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, আমদানি শুল্কের বৃদ্ধি, আমদানিকৃত অন্যান্য ভোজ্য তেলের আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়া, সর্ষের উত্পাদন কমে যাওয়াতে সমস্যা হচ্ছে।  কিছুদিন আগে মেখলিগঞ্জে ১১০ টাকা দরে সর্ষের তেল বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক গোপালপ্রসাদ সাহা বলেন, সর্বত্রই তেলের দাম বাড়ছে। ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দারাও সমস্যায় পড়েছেন। সিপিএমের অনিন্দ্য ভৌমিক বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক ভুল নীতির জন্যই দিন-দিন জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যই বাজারে সব ধরনের তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে চলছে। এদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। তবুও কেন্দ্রীয় সরকার নানাভাবেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।