দুদিনেই আমার রাজনীতির ইচ্ছে ঘুচে গিয়েছিল

119
প্রতীকী

দুদিনেই আমার রাজনীতির ইচ্ছে ঘুচে গিয়েছিল| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaআরতি মুখোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের ভোট মুম্বইয়ে বসে টিভিতে দেখছি। মনে কিছুই যেন রেখাপাত করছে না। খালি মনে হচ্ছে, আখেরে হবেটা কী? সাধারণ জনতা, শ্রমজীবী মানুষের কি ভোটের পর ভালো কিছু হবে আদৌ? তাঁরা কি কোনওভাবে উপকৃত হবেন? সেই আশায় কিন্তু জল। কারণ, বেশ কয়েক বছর ধরে দেখতে পাচ্ছি, শুধু সুবিধাবাদীরা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। যাঁরা মোসাহেবি করছেন, তাঁরাও পুরস্কৃত হচ্ছেন। চিন্তা করে দেখুন তো, যে শিল্পীকে ভূরিভূরি ভূষণে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট শিল্পে তাঁর প্রকৃত অবদান কতখানি? দেখা যাবে সেই ফিল্ডে তাঁর থেকেও অনেক প্রতিভাধর শিল্পী রয়ে গিয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার কথা ভাবেন না কেউ। কারণ তিনি দলবাজিতে নেই। সেজন্য তাঁর সম্মান নেই। এ খেলা চলছে নিরন্তর।

- Advertisement -

অনেকে মনে করেন, সুবিধাবাদীর দলে থাকতে আমিও বছর কয়েক আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। তাঁদের সেই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আমি যোগ দিইনি। আমাকে জোর করে যোগ দেওয়ানো হয়েছিল একজন শিল্পী হিসেবে। শিল্পী হিসেবে আমি মনে করেছিলাম, আমাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশ, শিল্পজগৎ যেভাবে দিন-দিন কলুষিত হচ্ছে, যেভাবে শিল্পীদের সুস্থ চেতনা নষ্ট হচ্ছে, যেভাবে পুরোনো গুণী শিল্পীদের অসম্মান করা হচ্ছে, সেইসব কিছুর জন্য ভালো কিছু অবশ্যই করা দরকার। যদিও দুদিনেই আমার সেই মোহ কেটেছে। দুদিন মিটিংয়ে আমাকে বলা হয়, আমাকে গান গাইতে হবে! আমি কি গান গাওয়ার জন্য রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম! তাই ওই রাজনীতি আমার দুদিনের। আর পা মাড়াইনি ওই পথে।

এটুকু বুঝেছি, এখনকার রাজনীতিতে রাজার নীতি আর কিছু নেই। শুধুই আখেরে গুছিয়ে নেওয়ার খেলা। সুবিধাভোগীদের সুবিধাভোগের নীতি। নয়তো ভোট নিয়ে আজ চারদিকে যা হচ্ছে, তাতে কি আদৌ মনে হচ্ছে যে সাধারণ মানুষের দারুণ ভালো কিছু করার জন্য ভোট হচ্ছে? চারদিকে তো শুধু হানাহানি আর মারামারি! মানুষের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি। সেখানে মিডিয়ারও কী দাপাদাপি! আমি কিন্তু খুব সুন্দর পরিবেশে মুম্বইয়ের কমলা গার্লস স্কুলে ভোট দিই। একসময় যখন কলকাতায় ভোট দিতাম, তখন কত শান্ত ছিল পরিবেশ। আমি ছোটবেলায় দমদম এলাকায় মানুষ হই। পরে চলে আসি বালিগঞ্জে। বালিগঞ্জ এলাকায় আমরা সবাই মিলে ভোট দিতে যেতাম। এখনকার মতো এমন পরিবেশ-পরিস্থিতি ছিল না।

এখন তো মনে হয় সব জায়গাতেই যেন রায়ট চলছে। ভোট দিতে গেলেই কোথা থেকে গুলি ছুটে এসে মেরে ফেলবে। একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আমলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে গিয়ে গান গেয়েছি। কিন্তু কোনওদিন রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলাম না। গান, অভিনয়, শিল্পের জগতে নানা রাজনীতি দেখার পর আর রাজনীতি নিয়ে উৎসাহ না থাকাই স্বাভাবিক। স্বাভাবিক কারণেই আমার ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। যে দল মুখে যাই বলুক, আসল বিচার করবেন মানুষ। যে মানুষ ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখেন। তবে আমি আর স্বপ্ন দেখি না। স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছি।