সব বিদ্রুপের জবাব এই সোনা, বলছেন কৃষ্ণ

জয়পুর : শুধুমাত্র প্যারালিম্পিকে পাওয়া একটা পদক নয়, এই সোনা সব সমালোচককে দেওয়া জবাব। রবিবার টোকিওয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন শাটলার কৃষ্ণ নাগর।

৪ ফুট ৫ ইঞ্চির কৃষ্ণ ব্যাডমিন্টনের এসএইচ৬ ক্যাটেগোরিতে সোনা জিতেছেন। ছোটবেলা থেকেই নিজের উচ্চতার জন্য বিদ্রুপের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর কথায়, ছোটবেলায় দেখতাম, সকলে আমার দিকে অন্যভাবে তাকিয়ে রয়েছে। এছাড়া বিদ্রুপ-খোঁচা তো নিত্যদিনের বিষয়। এগুলো আমার উপর প্রভাব ফেলত। সত্যি বলতে, আমার বন্ধুরা কোনওদিন এমন আচরণ করেনি। তবে অনেকেই বলত, কিছু করার জন্য যথেষ্ট লম্বা নই আমি। সেসময় কষ্ট পেতাম। তবে আজ মনে হচ্ছে একজন শাটলার হিসেবে যে উচ্চতায় পৌঁছেছি, তা ওই বিদ্রুপ-সমালোচনা আর আমার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব।

- Advertisement -

জন্মের দেড় বছর পরই কৃষ্ণার বামন হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। এ প্রসঙ্গে তাঁর বাবা সুনীল নাগর বলেন, বেশকিছু পরীক্ষার পর চিকিৎসাকরা জানান, ওর পিটুইটারি গ্রন্থিতে হরমোনের সমস্যা রয়েছে। প্রাণের ঝুঁকি থাকায় আমরা অস্ত্রোপচারে রাজি হইনি। আমাদের সন্তান যেমন আছে, তেমনই আমাদের প্রিয়। সোনা জয়ের পর বাড়ি ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতে চাইছেন কৃষ্ণ। তিনি বলেন, আমার ওজন বেশ কমে গিয়েছে। জয়পুর পৌঁছে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে খাব আর গল্প করব। পরিবারের কাছে ফিরতে আর অপেক্ষায় রাজি নন তিনি।

ফাইনালে চু ম্যান কাইয়ের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও লিড হাতছাড়া করেন কৃষ্ণ। ফলে তৃতীয় সেটটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর জন্য। সেটের ঠিক আগেই প্যারা ব্যাডমিন্টনের জাতীয় কোচ গৌরব খান্নার পরামর্শ পান তিনি। এ প্রসঙ্গে কোচ বলেন, কৃষ্ণার ফিটনেস, দক্ষতা ও মনোভাব ওর সবচেয়ে বড় শক্তি। তৃতীয় সেটে আমি ওকে একটি-একটি পয়েন্ট করে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। শান্ত থেকে ও বেশি আক্রমণে না গিয়ে খেলতে বলেছিলাম। সেই পরামর্শ শুনেই সোনা এনেছেন রাজস্থান সরকারের বনদপ্তরের আধিকারিক কৃষ্ণা।