বাংলাদেশের বাতাসে রহস্যময় মিথেন, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন পরিবেশবিদরা

114

ঢাকা : জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এতদিন অভিযোগের আঙুল উঠত কার্বন ডাই অক্সাইডের দিকে। এবার খলনায়কের আসনে মিথেন। ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাসের তালিকায় মিথেনের নাম রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, বাতাসে বিষ ছড়াতে মিথেনও কম যায় না। বর্ণ ও গন্ধহীন এই গ্যাস কাজ করে নিঃশব্দ ঘাতকের মতো। এই গ্যাসটাই ফ্লোরিডার মতো বাংলাদেশের বাতাসকেও ভারী করে তুলেছে বলে খবর। উপগ্রহের ছবি বিচার করে এই খবর দিয়েছে প্যারিসের তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা ক্যারস এসএএস। এই সংস্থা উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রিপোর্ট করে। সম্প্রতি তারা পৃথিবীজুড়ে মিথেন নিঃসরণ নিয়ে সমীক্ষা করেছিল। তাতেই বাংলাদেশের বাতাসে মিথেন ঘনীভূত হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে বিপন্ন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে একেবারে ওপরের দিকে। এমন একটি দেশে মিথেনের বাড়বাড়ন্তে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশের পাশেই ভারত, বিশেষত তার অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। বাংলাদেশের বাতাসের বিষ বায়ুপ্রবাহে ভর করে এপার বাংলায় চলে এলে কি হবে তা ভেবে কপালে চওড়া ভাঁজ পড়েছে পরিবেশবিদদের। ক্যারসের পাশাপাশি জিএইচজিস্যাট নামে একটি সংস্থা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ব্লুফিল্ড টেকনোলজিসও এই পরীক্ষা করে। বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতিকে ব্লুমবার্গ রহস্যময় বলে উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বাংলাদেশের আকাশে অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে ভয়াবহ রকম মিথেন নিঃসরণ শনাক্ত করেছে প্যারিসের সংস্থা ক্যারস। তবে বাংলাদেশে কী কারণে মিথেনের নিঃসরণ বাড়ছে, তা এখনও গবেষণাসাপেক্ষ।

- Advertisement -

জিএইচজিস্যাট-এর প্রধান স্টিফেন জার্মেইন বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে মিথেনের নিঃসরণ বেড়ে চলেছে। উপগ্রহ চিত্র থেকেও সেটা স্পষ্ট। কিন্তু এর উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। ব্লুফিল্ড টেকনোলজিসের প্রধান ইয়োতাম এরিয়ে বলেন, আমাদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মিথেন নিঃসরণকারী দেশগুলির একটি বাংলাদেশ। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, প্রাকৃতিক গ্যাস লাইনে ফাটল, কলকারখানার বর্জ্য, নির্গত দূষিত ধোঁয়া, খনিজদ্রব্যের জ্বালানিজাত মিশ্রিত গ্যাস বাংলাদেশের বাতাসে মিথেনের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলেছে। বিপদ হল, এই বিষ বহুদিন বাতাসে থেকে যায়। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদির জেরে মিথেনপুঞ্জ তার উৎস থেকে সরে আসছে দেশের ঘনজনবসতি এলাকার দিকে। এর ফলে বিপদ আরও বাড়ছে। আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশে জনসংখ্যা প্রচুর। তাই মিথেন কমানোর মতো আশু ব্যবস্থা করতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।