রায়গঞ্জের রহস্যময় গ্রামজুড়ে গণকবর

110

রায়গঞ্জ: কলেরা, কালাজ্বর আর খাদ্যাভাব, এই ত্র্যহ স্পর্শে ধীরে ধীরে উজাড় হয়েছে আস্ত একটা গ্রাম। বিপন্ন মানুষজন তিলে তিলে গড়া বসতভিটে ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন। চার-পাঁচ দশক আগে ফেলে আসা সেই গ্রামে এখন আর কোনও জনমানব নেই। শুধু রয়েছে ঘরবাড়ির ধুধু মাঠ। আর রয়েছে মারণ ব্যধিতে মৃত লোকজনের সমাধি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধিপুর গ্রামের পরিচয় এটাই। সূর্য ঢুবতেই এখন নিকষ অন্ধকার নামে গ্রামের ১৪৯ একর এলাকাজুড়ে।

উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের এই গ্রাম একসময় ভিড়ে গমগম করত। পাশেই মোহিনীগঞ্জ হাট। বিশরাইল, বালিয়াদিঘি গ্রামের মাঝে ১২ নম্বর এলাকায় সাধিপুর এখন জনশূন্য গ্রাম হিসেবে ইতিমধ্যে প্রশাসনের নথিতে উঠে এসেছে। যদিও জেলা প্রশাসনের তরফে ভোটার তালিকায় একজনের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন জানান, সাধিপুর গ্রামের অস্তিত্ব এখন ভৌগোলিক মানচিত্রে রয়েছে। কিন্তু মানুষ আর সেখানে বসবাস করে না। অদূরেই মোহিনিগঞ্জ হাট। সাধিপুর বস্তি ভয়ংকর সংক্রমক রোগের একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। কেউ জানান, সেখানে একসময় মানুষজনের বাড়ি ছিল। এখন কবর রয়েছে। তবে কিছু কিছু পরিত্যক্ত জমিতে ইদানিং সবজি সর্ষে, ভুট্টা চাষে নেমেছেন অন্য গ্রামের লোকেরা। ৮৫ বছরের বাসিন্দা এনামুল হোসেন জানান, কলেরা, কালাজ্বরে আক্রান্তরা এখানে মরে পড়েছিল। কেউ ছুঁয়েও দেখেনি মৃতদেহগুলি। খালি জমিতে পড়ে থাকা স্মৃতি বলতে শুধু শ’য়ে শ’য়ে কবর। যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা জঙ্গল ও গাছ-গাছালি গ্রামের দখল নিয়েছে। কিন্তু ঠিক কত মানুষ সে সময় মারা গিয়েছিল সেই পরিসংখ্যান খুঁজে পাওয়া আর সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধিপুর গ্রাম আবার কখনও মানুষের বসতি হয়ে উঠবে কি না, তা বলবে সময়।

- Advertisement -