নবান্ন উপলক্ষ্যে মনসা পুজোয় মাতলেন এলাকাবাসী

263

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: ঘরে ঘরে নতুন ফসল উঠতেই নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে গ্রাম বাংলার রাজবংশী পরিবারগুলি। তবে এবছর করোনার কারণে সেভাবে গ্রামাঞ্চলের বাড়িগুলিতে নবান্নকে কেন্দ্র করে মনসা পুজো নিয়ে ব্যস্ততা চোখে না পড়লেও ঐতিহ্য ও রীতিনীতি মেনে বেশ কিছু পরিবার বুধবার সকাল থেকে পুজোর আনন্দে মাতলেন।

রায়গঞ্জ ব্লকের শেরপুর, বিরঘই, বরুয়া, মাড়াইকুড়া গ্রামগুলিতে চোখে পড়ল উৎসবের মেজাজ। তবে করোনার কারণে এবছর সেভাবে কাজকর্ম না থাকায় নামে মাত্র আয়োজনে পুজো সেরেছেন অনেকে। সারাই, মহাদেবপুর, শাকধুয়া, উত্তর রুপাহার সহ গ্রামগুলিতে এদিন সকালে প্রতিমা দিয়ে মনসা পুজো হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ঘটপুজো সারছেন। পুজোকে কেন্দ্র করে এখনও বলিপ্রথা প্রচলিত আছে। সেই মতো দেখা গেল গ্রামগুলিতে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে চলছে পাঠাবলি। তবে বলিপ্রথা বন্ধ করে পুরোনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পশুপ্রেমি সংস্থার সদস্যরা।

- Advertisement -

প্রতি নবান্নতে মনসা পুজো ও মনসা গান, এটাই এখানকার রাজবংশী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি। মনসা একজন লৌকিক হিন্দু দেবী, অন্যদিকে সর্পদেবী। ঘরে ঘরে নতুন ফসল আসার পর সর্পের আগমণ ঘটে। তাই সর্প দংশনের হাত থেকে রক্ষা পেতে, সর্প দংশনের প্রতিকার পেতে, প্রজনন ও ঐশ্বর্য লাভের উদ্দেশ্যে দেবী মনসার পুজোয় মাতেন এলাকার রাজবংশী পরিবারের মানুষেরা। আবার অনেকে বলেন, ‘শ্রাবণ মাসে মনসা পুজোর সময় হাতে সেভাবে টাকা পয়সা থাকে না। তাই সেই সময় নামেমাত্র পুজো সারতে হয়। অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ফসল উঠলে প্রত্যেকের হাতে টাকা পয়সা আসায় তাঁরা মনসা পুজোয় মেতে উঠেন।’