ফের বঙ্গ সফরে ‘নৈশভোজের পলিটিক্স’ নাড্ডার

190

বর্ধমান: দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট। অন্যদিকে, কৃষক আন্দোলনে যখন উত্তাল দিল্লি, ঠিক তখনই বাংলায় কৃষকের আবেগকে ধরতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। শনিবার কাটোয়ায় এক কৃষক বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। মুস্থলীর মণ্ডল পরিবার। মথুরা মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী মানবী মণ্ডল, বাড়ির আর সবাই এখন মহাব্যস্ত নাড্ডার মধ্যাহ্নভোজের তোড়জোড়ে।

রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে শনিবার ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযান’ শুরু করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। জেলার কাটোয়ার জগদানন্দপুরের জনসভা মঞ্চে উপস্থিত থাকা  কৃষকদের হাতথেকে ফসল নিয়ে নাড্ডাজী দাবি করলেন, ‘এই রাজ্যের কৃষকদের জন্য মমতা সরকার কিছুই করেনি। বাংলার কৃষকদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। আগামী দিনে দিল্লিতে মোদি আর বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে। তখনই বঞ্চনা থেকে মুক্তি মিলবে বাংলার কৃষকদের।‘

- Advertisement -

ফের বঙ্গ সফরে 'নৈশভোজের পলিটিক্স' নাড্ডার| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতির এমন দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। কাটোয়ার রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজো দিয়ে তারপর জগদানন্দপুরের জনসভা মঞ্চে পৌছান নাড্ডাজী। আগেথেকেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাংসদ সুনীল ও অন্য নেতারা। সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথমেই নাড্ডাজী তারিফ করলেন স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলার ভূমি ঐতিহাসিক ভূমি। এই ভূমিকে প্রণাম জানাই। প্রভু চৈতন্য দেবকেও সভামঞ্চ থেকে তিনি স্মরণ করেন।

জগদান্দপুরের সভা থেকে আগাগোড়াই রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান নাড্ডাজী। তিনি বলেন, জনসভায় আগত মানুষজন যেভাবে আমায় স্বাগত জানালেন ও জনসভায় জনসমাগম থেকেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছে মমতার বিদায় নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গের জনতা সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন, বিজেপির ক্ষমতায় আসা সময়ের অপেক্ষা মাত্র ।বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে সরকার বানাবেই।

জনসভা মঞ্চ থেকে ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযান’ শুরু করার কথা ঘোষনা করে নাড্ডাজী বলেন,বাংলায় আমাদের সরকার এসে কৃষকদের ন্যায় দেবে। মোদিজী প্রধানমন্ত্রী হবার পর কৃষি ও কৃষক স্বার্থে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ ছয় গুন বাড়িয়েছেন। সেখানে ইউপিএ সরকারের আমলে ২০১৩-১৪ অর্থ বর্ষের বাজেটে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা। মোদি সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাড়িয়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা করেছে। মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস রেটও ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

ফের বঙ্গ সফরে 'নৈশভোজের পলিটিক্স' নাড্ডার| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

জে পি নাড্ডা আরও বলেন, ‘কৃষাণ সন্মান নিধি’ চালু করতে চান বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তা আজ জেনেছি। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে নাড্ডা বলেন, ‘দেড় দুই বছর ধরে আমরা ’কৃষক সন্মান নিধি’ চালুর কথা বলে আসছি। বাংলার ৭০ লক্ষ কৃষক পরিবার কৃষক সন্মাননিধি থেকে বঞ্চিত রয়ে আছেন। মমতাজী আর আপনার চিঠির দরকার নেই। আমরা ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযান ’শুরু করে ফেলেছি। এই বাংলায় এবার বিজেপির সরকার হচ্ছেই। তারপরেই আমরা বাংলায় ‘কৃষক সন্মান নিধি’ চালু করব।

নাড্ডাজী জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ‘কিষাণ রেলগাড়ির’ সূচনা হয়েছে মহারাষ্ট্রের সাম্বোলা থেকে। এরজন্য ১০০ রেলগাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওইসব রেলগাড়ি মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবাংলার হাওড়া স্টেশানে পৌছাবে। নড্ডাজীর আরো দাবি কৃষক স্বার্থেই নতুন কৃষি বিল আনা হয়েছে। যে বিল কৃষকদের আজাদি দিয়েছে।

কৃষকরা যাতে ফসলের সঠিক দাম পায় সেকথা বিলে উল্লেখ রয়েছে। নিজের জমির ফসলের দাম কৃষকরা নিজে নির্ধারণ করবে। সেই ব্যবস্থার বিষয়টিও বিলে রয়েছে। কৃষি বিলের এই সবিস্তার তুলে ধরে নাড্ডাজী বলেন, ‘এই বিল কার্যকর করা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। নাড্ডাজী দাবি পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বুঝে  মমতাজীর এখন কৃষকদের কথা মনে পড়েছে।‘ এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে নাড্ডাজী বলেন, ‘মমতাজী -বাংলার লোক ঠিক করেনিয়েছে বিজেপি আসছে, আপনি যাচ্ছেন।’

‘আয়ুস্মান ভারত’প্রসঙ্গে সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি এদিন বলেন ,দেশের বহু মানুষ কেন্দ্রের ‘আয়ুস্মান ভারত’ যোজনা ভুক্ত হয়েছেন। ব্যতিক্রম শুধু পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে এখানকার ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ লোককে অর্থাৎ ১ কোটি ১১ লক্ষ পরিবারকে কেন্দ্রের ‘আয়ুস্মান ভারত যোজনায়’ স্বাস্থবিমার অওতাভুক্ত করবে। নাড্ডাজীর দাবি মমতাজীর জন্য বাংলার মানুষ ‘আয়ুস্মান ভারত যোজনার’ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। মোদিজীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে বাংলায় স্বচ্ছ ভারত, জনধন যোজনা, আয়ুস্মান ভারত যোজনা সবই চালু করবে। মমতাজী কিছুই করবেন না। তাই সবাই বুঝে গেছে দিল্লিতে মোদি আর বাংলায় বিজেপি সরকার চাই।

জনসভা মঞ্চ থেকে দুর্নীতির অভিযোগে এনেও এদিন তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন জে পি নাড্ডা। আমপান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নাড্ডাজী কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগে আরও বলেন, ‘কোভিডে আমরা রেশন দিয়েছি আর ওরা রেশন চুরি করেছে। এরা শুধু রেশন চোরই নয়, মোদিজীর চালু করা প্রকল্পের নামও চুরি করে। যেমন স্বচ্ছ ভারত হয়েগেছে ‘নির্মল বাংলা’, প্রাধানমন্ত্রী আবাস যোজনা হয়েগেছে ‘বাংলার বাড়ি। এই বাংলায় সবেতেই কাটমানি দিতে হয়। কয়লা পাচার, বালি পাচার এই সবেরই তদন্ত হচ্ছে। আর বেশীদিন নয়। খুব শীঘ্র দুধ কা দুধ, পানি কা পানি সব সামনে এসে যাবে।

ফের বঙ্গ সফরে 'নৈশভোজের পলিটিক্স' নাড্ডার| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

নাড্ডার জন্য আজ অতি সাধারণ নিরামিষ মেনু, দুপুরের মেনুতে রয়েছে সাদা ভাত, রুটি, ডাল, তিন-চার রকম ভাজা, শুক্তো, পোস্ত, ফুলকপির তরকারি, চাটনি, পায়েস, খেজুরের গুড়ের মিষ্টি।