রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে নাগর সেতু

155

রায়গঞ্জ: তদারকির অভাবে যে কোনওদিন স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পথ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সোনালি চতুর্ভুজের সড়ক হবে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পূর্ত দপ্তরের হাত থেকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চলে যায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে। অনেক গড়িমসির পর যদিও প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিমের হস্তক্ষেপে রুপাহার থেকে ডালখোলা ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ফোরলেনের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ দ্রুত গতিতেও চলছে। জানা গিয়েছে, রুপাহার থেকে ডাঙ্গাপাড়া পর্যন্ত একদিকে রাস্তার কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেলেও নাগর নদী পর্যন্ত কাজ অনেক দেরি রয়েছে।

কলকাতা থেকে ৪১৮ কিলোমিটার আবার কোচবিহার থেকে ৪১৮ কিলোমিটার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত নাগর নদী। আর সেই জন্যেই হয়তো রাজ্যের পূর্ত দপ্তরে খতিয়ানে উল্লেখ নাগর সেতু ৪১৮ পয়েন্ট। বিহার থেকে বাংলায় যুক্ত হয়েছিল চোপড়া থেকে করণদিঘি। তখন পশ্চিম দিনাজপুর জেলার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত নাগর নদীতে সেতু তৈরি হয়। সেতুর পূর্বে রায়গঞ্জ ব্লক আর পশ্চিমে করণদিঘি ব্লকে ভাগ হয়। ১৯৯০ সালের ভয়াল বন্যার তোরে ভেঙে পড়ে নাগর সেতু। অস্থায়ীভাবে ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ভাঙা সেতুর পাশে আরও একটা বিকল্প সেতুর নির্মাণ হয়। ১৯৯৩ সালের মধ্যে দ্রুত গতিতে তৈরি হয় নতুন সেতু। প্রতিদিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কয়েক হাজার ছোট-বড় যানবাহনের চলাচল। রাজ্য পূর্ত দপ্তরের তদারকিতে সেতু ছিল ঝাঁ চকচকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র ৯ থেকে ১০ বছর কোনওরকম দেখভাল হচ্ছে না। সেতুর নীচে দু’পাশের অনেক মাটি সরে, দু’পাশে বড় গাছ হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলে কেঁপে উঠছে সেতু। সেতুর বেশ কয়েক জায়গায় সিমেন্ট খসে পড়েছে। তদারকির অভাবে যে কোনওদিন স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পথ। ফলে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে নাগর সেতু। এই বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে থাকায় তারাই বিষয়টি বলতে পারবেন। পূর্ত দপ্তরের এক বাস্তুকার জানান, বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

- Advertisement -