এবার নাম বদলের পথে মাটিগাড়ার ডেয়ারি

201

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : মাটিগাড়ার মাদার ডেয়ারি কি এবার বেঙ্গল ডেয়ারির হাতে যাচ্ছে? এই জল্পনাই চলছে শিলিগুড়ি জুড়ে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শুধু মাটিগাড়ার মাদার ডেয়ারির প্ল্যান্টই নয়, রাজ্য সরকারের হাতে থাকা প্রায় ২০টি ডেয়ারিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে বেঙ্গল ডেয়ারি নাম দিয়ে শীঘ্রই বাজারে দুধের সরবরাহ শুরু করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্যান্য জেলার ডেয়ারিগুলির পাশাপাশি মাটিগাড়ার ডেয়ারিও পরিদর্শন করেছে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিকরা।

দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, বিভিন্ন জেলায় সরকারের হাতে থাকা ডেয়ারিগুলিকে একত্র করে বেঙ্গল ডেয়ারি নামেই দুধ বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে জেলার ডেয়ারিগুলি এক-একটি ইউনিট হিসাবে কাজ করবে। উৎপাদন বাড়িয়ে লাভের মুখ দেখাই আমাদের লক্ষ্য।

- Advertisement -

দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা হিমুল ডেয়ারিকে ২০১৫ সালে মাদার ডেয়ারির হাতে তুলে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। মনে করা হয়েছিল, এবার মাদার ডেয়ারির হাত ধরে উত্তরবঙ্গে ঘুরে দাঁড়াবে এই সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ডেয়ারি। কিন্তু ভাবনাই সার। মাদার ডেয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর মাটিগাড়ার এই প্রকল্পের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কয়েক বছর আগেও প্রতিদিন যেখানে ২২-২৫ হাজার লিটার দুধের চাহিদা ছিল, আজ সেই উৎপাদন এসে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৫০০ লিটারে। অর্থাৎ কোনও রকমে টিমটিম করে জ্বলছে মাটিগাড়ার এই সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ডেয়ারি।

এই পরিস্থিতিতে একাধিক বেসরকারি ডেয়ারি শিলিগুড়ির বাজারে ফুলেফেঁপে উঠেছে। বর্তমানে যেটুকু দুধ বাজারে আসছে সেটাও দক্ষিণবঙ্গের ভাগীরথী ডেয়ারি থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর জেরে দার্জিলিং পাহাড় এবং শিলিগুড়ি মহকুমার চিলিং প্ল্যান্টগুলো পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। গোরু লালনপালন করে যাঁরা সংসার চালাতেন, সেই কৃষকদেরও অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন মহলের মতে, মাথাভারী প্রশাসন এবং দিশাহীন পরিচালন ব্যবস্থার জেরেই হিমুলের পরে মাদার ডেয়ারিও ধুঁকছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর মাদার ডেয়ারি সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় থাকা রাজ্য সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত ডেয়ারিগুলিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে বেঙ্গল ডেয়ারি নামে বাজারজাত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে কুলিক, মাদার ডেয়ারি সহ উত্তরবঙ্গের চারটি ডেয়ারি রয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। প্রতিটি ডেয়ারির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দলও গঠন করেছে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর। এই দলটি গোটা রাজ্যেই সমস্ত ডেয়ারি ঘুরে দেখেছে। প্রযোজনমতো প্রত্যেকটি ডেয়ারির পরিকাঠামোও কিছুটা উন্নত করা এবং বাজারের চাহিদামতো দুধের জোগান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর জানিয়েছে।