হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীকে রেজিস্টারে অনুপস্থিত দেখালেন চিকিৎসক, চাঞ্চল্য

330

চাঁচল: হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীকে চিকিৎসকের রেজিস্টারে অনুপস্থিত দেখানোকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। অভিযোগ পেয়ে কমিটি গড়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতালের সুপার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের দক্ষিণ তালসুর গ্রামের বাসিন্দা এজাবুল হক (৫৫) নামে এক রোগী ভর্তি হন চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। কিন্তু তিনদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাঁর কোনওরকম চিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ করেন রোগীর ছেলে সরিফুল ইসলাম। পাশাপাশি তাঁর বাবাকে চিকিৎসকের রেজিস্টারে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এহেন কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁচলে।হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন সরিফুল ইসলাম।

- Advertisement -

চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে চাঁচলে নানা মহলে ক্ষোভ রয়েছে। কংগ্রেসের চাঁচল-১ ব্লক সভাপতি আনজারুল হক জনি বলেন, চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ঝাঁ চকচকে বিল্ডিং বাড়ি রয়েছে, কিন্তু স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। কাগজে কলমে ৭০ জনের বেশি ডাক্তার রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে খুব সামান্যই ডাক্তার থাকেন। তাঁর অভিযোগ, রোগীরা ২/৩ দিন ধরে ভর্তি হওয়ার পর বসে থাকে। কিন্তু কোনও ডাক্তারের দেখা মেলে না। কংগ্রেসের তরফে খুব শীঘ্রই হাসপাতালের সুপারকে ডেপুটেশন দেওয়া হবে।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর রাম বলেন, দুঃখজনক ঘটনা। রোগী হাসপাতালে ভর্তি অথচ চিকিৎসকের রেজিস্টারে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। এটা কী করে হয়? হাসপাতালের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রথম দিকে ডাক্তার কম ছিল। আমাদের আন্দোলনের পর প্রচুর ডাক্তার পাওয়া গিয়েছে। খুব ভালো ভালো ডাক্তার রয়েছেন এখানে। রয়েছে বহু সার্জেনও। কিন্তু পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বেশিরভাগ সময় ডাক্তার থাকেন না। গ্রামগঞ্জ থেকে প্রচুর রোগী আসেন। কিন্তু রোগীরা পরিষেবা পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের চাঁচল-১ ব্লক সভাপতি সুমিত সরকার বলেন, ডাক্তারবাবুরা ছুটিতে থাকতেই পারেন। তবে রোগীদের চিকিৎসায় গাফিলতি ঠিক নয়। রোগীদের অবহেলা করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি হাসপাতালের সুপার সাহেবের দেখা উচিত। চাঁচলের বিধায়ক আসিফ মেহবুব বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকাণ্ড মানা যায় না। ডাক্তারবাবুদের সজাগ হয়ে কাজ করা উচিত। হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা পাননি ওই রোগী। এমনকী ওই রোগীকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে কথা বলা হবে।

হাসপাতালের সুপার আখতার হোসেন বলেন, একজন ডাক্তারের কোভিড পজিটিভ হয়ে গিয়েছেন। তাই দুর্ভাগ্যবশত এমন ভুল হয়েছে। এজন্য আমি দুঃখিত। পরবর্তীতে যাতে এমনটা না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকব। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গড়ে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।