মুখ্যমন্ত্রীর নারদ-হলফনামা মামলার শুনানি শেষ, বুধবার রায়দান

93

কলকাতা: শেষ হল নারদ মামলায় মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর হলফনামা প্রদান সংক্রান্ত শুনানি। আগামীকাল, বুধবার রায়দান করবে কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ। ১৭ মে নারদ মামলায় রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। ২৯ মে কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই চারজনের জামিন মঞ্জুর করলেও নারদ মামলা এরাজ্য থেকে সরানোর যে আবেদন করেছিল সিবিআই তার উপর শুনানি চলছিল এতদিন। সেই মামলায় সুপ্রিমকোর্ট গত ২৫ জুন হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর হলফনামা প্রদানের বিষয়টি আগে শুনতে। তারই শুনানি শেষ হল আজ। আগামীকাল হবে রায়দান।

নারদ মামলায় আজ রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর হলফনামা দেওয়া নিয়ে শুনানি চলল ঘণ্টা দুয়েক ধরে। মামলায় রাজ্যের হয়ে সওয়াল করলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। প্রথমেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল জানতে চান কেন হলফনামা দিতে চায় রাজ্য। পাশাপাশি এতদিন পরে কেন সেই প্রশ্নও করেন তিনি। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, ২৭ মে থেকে রাজ্য এই মামলায় রয়েছে। ২ জুন সিবিআই এই মামলায় তাদের বক্তব্য শেষ করেছে। ৭ জুন রাজ্য হলফনামা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও বলেন, ‘চার হেভিওয়েটকে রাজ্য সাহায্য করছে বলে সিবিআই যে অভিযোগ করেছে তার বিরোধিতা করছি। আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। নিরাপত্তার বিষয়টিও রাজ্যের। তাই হলফনামা দিয়ে আমরা আমাদের বক্তব্য জানাতে চেয়েছিলাম। আইন অনুয়ায়ী হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় পাওয়ার কথা। আমাদের সময়সীমা এখনও পেরিয়ে যায়নি।’

- Advertisement -

এর পালটা প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যদি চার সপ্তাহের মধ্যে মামলার শুনানি শেষ হয়ে যেত সেক্ষেত্রে আপনারা কি করতেন?’ পাশাপাশি বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের এই আবেদনের শুনানি দ্রুত শেষ করুন। এই আর্জি একবার আমরা খারিজ করেছিলাম। আপনারা সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছিলেন। আবার সেই মামলা এখানে এসেছে। এভাবে দিনের পর দিন শুনানি চলতে পারে না।’ কিশোর দত্ত বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয় তাই আমাদের হলফনামা গ্রহণ করা হোক।’

এরপর মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, ‘শুধুমাত্র দেরি হয়েছে বলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি গ্রহণ করতে অস্বীকার করতে পারে না আদালত। এই মামলাটিতে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত রয়েছে। তাই সিবিআই হলফনামা গ্রহণ করার বিরোধিতা করতে পারে না।’ সেই সময় বিচারপতি হরিশ ট্যাণ্ডন বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী এই মামলায় অভিযুক্ত নন। ঝামেলার কারণে তাদের নাম যুক্ত হয়েছে মামলায়।’ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘১৭ মে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

বিচারপতি সৌমেন সেন বক্তব্য, ‘ঘটনা সম্পর্কে যে তথ্য রাজ্যের কাছে আছে তারা যদি সেটা আদালতের কাছে হলফনামা আকারে পেশ করতে চায়, সেক্ষেত্রে সিবিআইয়ের আপত্তি কোথায়? সিবিআই অভিযোগ করেছে বলেই মানুষের জমায়েতের তত্ত্ব মেনে নিতে পারে না আদালত।’ তখন তুষার মেহতা বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবেই মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী সঠিক সময়ে তাঁদের হলফনামা জমা দেননি।’