ভার্চুয়ালি শুনানি, ৬ ঘণ্টা বাদে নিজাম প্যালেস ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

47
ছবি: সংগৃহীত।

কলকাতা: নারদকাণ্ডে সোমবার ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। যদিও করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে এদিন তাঁদের ব্য়াঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়নি। শুনানি চলে ভার্চুয়ালি। অন্যিদেক গ্রেপ্তারির প্রতিবাদ জানিয়ে সকাল থেকে নিজাম প্যালেসে ঠাঁই বসে থাকেন রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানি শেষে প্রায় ৬ ঘণ্টা বাদে এদিন তিনি নিজাম প্যালেস ছাড়েন। এদিকে শুনানি পর্বে একদিকে যেমন সিবিআইয়ের তরফে চার্জশিট পেশ করার পাশাপাশি চারজনকে নিজেদের হেপাজতে চেয়ে আবেদন জানানো হয় তেমনই গ্রেপ্তার হওয়া চার নেতা-মন্ত্রীদের তরফে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন তুলে ধরেন। অন্যদিকে শুনানি পর্বে আদালতে তরফে বিচারক সিবিআইয়ের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন আপনারা তো চার্জশিট তৈরি করে ফেলেছেন। তদন্তের কাজ অবশিষ্ট নেই। তাহলে জামিনের বিরোধিতা করছেন কেন? উত্তরে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, আটক ব্যক্তিরা খুবই প্রভাবশালী। জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন তাঁরা।

শুনানি পর্বে তৃণমূল সাংসদ তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ফিরহাদ হাকিম বর্তমানে কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক। কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের কোভিড মোকাবিলার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হলে সেই কাজ ব্যাহত হবে। একইভাবে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্রের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আবেদন পেশ করেন। অন্যদিকে জামিনের সমর্থনে আইনজীবীরা আদালতে জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অযথা গ্রেপ্তার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেক্ষেত্রে এই চার নেতাদের ক্ষেত্র সেবিষয়টি মাথায় রাখা উচিত আদালতের। কারণ সকলেই প্রতিষ্ঠিত এবং প্রত্যেকেই ষাটোর্ধ্ব। তাদের পক্ষে পালিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

- Advertisement -

এদিন দিল্লির সদর দপ্তর থেকে সিবিআই-এর মুখপাত্র জানান, নারদ কাণ্ডে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিলের আদেশ অনুসারে ওই মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। চলতি বছরের ৭ মে সিবিআই-এর তরফে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের (রাজ্যপালের নাম উল্লেখ না করে) তরফে অনুমতি দেওয়া হয়। সেই অনুমতি বলেই ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুর্নীতি দমন আইনের নির্দিষ্ট ধারায়। যদিও সিবিআই-এর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। অধ্যক্ষের বক্তব্যকে হাস্যকর বলে ব্যাখ্যা করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএম সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি জানান, কোনও বিধায়ক বা মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করার জন্য অধ্যক্ষের থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই। অন্যদিকে, রাজভবনের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতীয় সংবিধানের ৬৩ ও ৬৮ নম্বর ধারা মতে রাজ্যপাল সমগ্র বিষয়টি বিবেচনা করে অনুমতি দিয়েছেন। কাজেই সেবিষয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠার অবকাশ নেই।

গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে নারদকাণ্ডের মূল স্টিং অপারেটর ম্যাথু স্যামুয়েল জানান, তিনি খুশি। তবে ওই গ্রেপ্তারের তালিকায় শুভেন্দু অধিকারীর নাম নেই কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

যদিও গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি জানান, করোনা মোকাবিলা থেকে সর্বস্তরের ব্যর্থতার দায় ঢাকতেই এই সময় সিবিআইকে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই গ্রেপ্তার চার বর্তমান ও প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করিয়েছে কেন্দ্র। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের এই চক্রান্তের মাঝেই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।