করোনা আবহেও দেশে রেকর্ড বিদেশি বিনিয়োগ, দাবি প্রধানমন্ত্রীর

309

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক লগ্নি টানতে মাঠে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভার্চুয়াল গ্লোবাল ইনভেস্টর রাউন্ডটেবল-এ ভারতের ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি হয়ে ওঠার স্বপ্নের কথা জানালেন দেশি-বিদেশি উদ্যোগপতিদের সভায়। বিনিয়োগ ও আর্থিক সংস্কার সম্পর্কে ভারতের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করলেন তিনি। আর্থিক ও রাজনৈতিক সংস্কার থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারত কেন সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান, তাঁর ব্যাখ্যা দিলেন প্রাঞ্জল ভাষায়। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ভারতে ৩৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। যা সর্বকালীন রেকর্ড বলে প্রধানমন্ত্রীর দাবি।

তিনি বলেন, মহামারির মধ্যেও ভারত তার উদ্ভাবনী শক্তি ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে অর্থনৈতিক ধাক্কা রুখে এগিয়ে গিয়েছে। এটা অভূতপূর্ব। কঠিন সময়ে ভারত তার অন্তর্নিহিত শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। আগামী দিনে এই শক্তি দেশের অর্থনীতি এবং সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে। তাঁর বক্তব্য, আত্মনির্ভর ভারত কেবল দৃষ্টিভঙ্গি নয়, দক্ষ শ্রমিকদের ব্যবহার করে উৎপাদন শক্তি বাড়িয়ে নেওয়ার কৌশলও বটে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিবেশ, সমাজ এবং সুষ্ঠু প্রশাসন গড়তে যেসব সংস্থা দায়বদ্ধ, তাদের দিকে লগ্নি ঝুঁকছে। ভারত আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়ানোর পাশাপাশি এই বিষয়টা খেযাল রেখে সংস্কারের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সেই কারণেই বিনিয়োগকারীদের এক নম্বর গন্তব্য হয়ে উঠেছে ভারত। আগামী দিনে ভারত বিশ্বে বিনিয়োগের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

- Advertisement -

ভারতের আর্থিক উদারনীতির সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কার, বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শক্তিশালী প্রশাসন যে বিনিয়োগের উপযুক্ত বলে বৃহস্পতিবার লগ্নি তহবিল সংস্থা ও দেশি-বিদেশি উদ্যোগপতিদের মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, কোরিয়া, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর সহ নানা দেশের ২০টি বড় পেনশন ও রাষ্ট্রায়ত্ত লগ্নি তহবিল সংস্থা এই ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠক শুরুর আগে মোদি টুইটে লেখেন, আমি ভার্চুয়াল গ্লোবাল ইনভেস্টর রাউন্ডটেবলে যোগদান করছি। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ভারতে কী ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সংস্কার করা হয়েছে, সেসব প্রতিনিধিদের বুঝিয়ে বলব।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের উদ্যোগে এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস ছাড়াও সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। ছিলেন এইচডিএফসির দীপক পারেখ, সান ফার্মার দিলীপ সাংভি, আরআইএল-এর মুকেশ আম্বানি, ইনফোসিসের নিলেকানি, টাটা গ্রুপের রতন টাটা, কোটাক মাহিন্দ্র ব্যাংকের উদয় কোটাক প্রমুখ। ভারতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখন কী সুবিধা রয়েছে এবং বিনিয়োগ টানার রাস্তাকে আরও কীভাবে চওড়া করা যায়, তা নিয়ে দেশি-বিদেশি শিল্পপতি ও তহবিল সংস্থার কর্ণধাররাও মতামত দেন। বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়বে বলে প্রায় সকলে একমত হন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত সংস্থাগুলি মিলিতভাবে ৬ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার তহবিলের মালিক। ভারতে বিনিয়োগ করাতে এদের রাজি করাতে পারলে দেশীয় অর্থনীতির ভোলবদল ঘটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।