ডাক্তার হতে চায় দিনমজুরের ছেলে নাসিম

330

মুরতুজ আলম, সামসী: উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করেও অর্থাভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় রয়েছে মহম্মদ নাসিম। ৮৭ শতাংশ (৪৩৭) নম্বর পেয়েছে। ডাক্তার হতে চায় সে। কিন্তু বাবার আর্থিক সামর্থ্য নেই তাকে ডাক্তারি পড়ানোর। মহম্মদ নাসিমের বাড়ি রতুয়া-১ ব্লকের শ্রীপুর-১ জিপির আস্কাপাড়া গ্রামে। বাবা আব্দুল লতিব সামান্য দিনমজুর। বয়স ষাটের ওপর। আগের মতো আর খাটতে পারেন না। টানা লকডাউনে একেবারে কর্মহীন। তাই কাজ হারিয়ে বাবা লতিব সাহেব এখন বাড়িতে বসে রয়েছেন। মা ফতেমা বিবি একজন গৃহবধূ।

মেধাবী মহম্মদ নাসিম জানায়, বাবার জমি জায়গা মাঠে এক কাঠাও নেই। আড়াই শতক ভিটে বাড়ি সম্বল। টিনের দেওয়াল ও উপরে টালি দিয়ে ভাঙাচোরা বাড়ি। চার ভাই, চার বোন। বড়ো পরিবার। সবার ছোটো নাসিম। ভাই-বোন সবার বিয়ে থা হয়ে গেছে। বিয়ের পরেই দাদারা সব পৃথক হয়ে গিয়েছে। এতোদিন নাসিমের পড়াশুনার খরচ জুগিয়েছে দাদা রাকিমুদ্দিন। রাকিমুদ্দিন বর্তমানে আরব দেশে রয়েছেন শ্রমিকের কাজে। কিন্তু লকডাউনে কাজ নেই। টানা চার মাস বসে আছে। বেতন ও নেই। করোনার জন্য বাড়ি ফেরত আসতে হবে রাকিমুদ্দিনকে। দাদা রাকিমুদ্দিন আর খরচ চালাতে পারবেন না।

- Advertisement -

কালিয়াচকের একটি মিশনে রেখে মাধ্যমিকেও ৮৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করে। উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান নিয়ে আল আমিন মিশনের মালদা শাখায় পড়ে।সেখান থেকে ৮৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে। এতোদিন পড়াশুনার সব খরচ জুগিয়েছে দাদা রাকিমুদ্দিন। রাকিমুদ্দিন নিজেও অভাবকে সঙ্গী করে ইংরেজি বিষয়ে এমএ পাস করার বিএড ও করেন। চাকরি না পেয়ে আরব দেশের ভিসা নিয়ে শ্রমিকের কাজে যান সেখানে। কিন্তু লকডাউনে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হচ্ছে।

নাসিম এখন মেডিক্যালের নিট পরীক্ষার জন্য কলকাতায় থেকে প্রস্তুতি নিবে। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছে রয়েছে।কিন্তু অর্থাবে ডাক্তারি পড়ার সাধ হয়তো পূরণ হবেনা নাসিমের। এনিয়ে চরম চিন্তায় রয়েছে নাসিম ও তার পরিবার। কোন সামাজিক সংগঠন বা সুহৃদয় ব্যক্তি মেধাবী নাসিমের পাশে না দাঁড়ালে সে অকালেই হারিয়ে ফেলবে ভবিষ্যতের ঠিকানা। এলাকার বিধায়ক (মালতীপুর) আলবেরুনী জুলকারনাইন বলেন, মেধাবী আস্কাপাড়ার নাসিমকে ব্যক্তিগতভাবে যথাসাধ্য হেল্প করার কথা বলেন। রতুয়া-২-এর বিডিও সোমনাথ মান্না অবশ্য ব্লক প্রশাসনের তরফে নাসিমকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।