ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ৪৩ কোটির দুর্নীতি মামলায় ফারুক আবদুল্লাহকে ইডি’র জেরা, প্রতিহিংসার অভিযোগ

287

নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা তথা জম্মু কাশ্নীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহকে ডেকে পাঠিয়ে ফের জেরা করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট(ইডি)। জম্মু কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ৪৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। তার ভিত্তিতেই আজ, সোমবার জ্ম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুককে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে ইডি। ন্যাশনাল কনফারেন্সের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, যেহেতু কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে উপত্যকার সব রাজনৈতিক দলগুলিকে একত্রিত করছেন ফারুক আবদুল্লাহ, তারই জেরে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে ফারুক আবদুল্লাহকে হেনস্থা করা হয়েছে৷

জম্মু কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে আর্থিক অনিয়মের মামলায় ডেকে পাঠানো হয় প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে৷ ২০১৮ সালে ন্যাশনাল কনফারেন্সের এই সাংসদের বিরুদ্ধে জম্মু কাশ্মীর ক্রিকেট সংস্থায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই৷ ফারুক আবদুল্লাহ ছাড়াও চার্জশিটে আরও তিনজনের নাম ছিল৷ সিবিআই-এর অভিযোগ ছিল, ২০০২ থেকে ২০১১-এর মধ্যে জম্মু কাশ্মীর ক্রিকেট সংস্থায় ৪৩.৬৯ কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে৷  অভিযোগে এনসি সাংসদ ফারুক-সহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন ৩ আধিকারিক মির মনজুর গজনফার আলি, বশির আহমেদ মিসগর এবং গুলজার আহমেদ বেগের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই।

- Advertisement -

ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘গুপকর ঘোষণার পরই ইডি-র চিঠি এসেছে৷ কাশ্মীরে মানুষের যে জোট তৈরি হচ্ছে, এটা তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসা৷’ দলের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়, নতুন জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করতে না পেরেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির ব্যবহার করছে বিজেপি৷

গত বছরের ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়েছিল কেন্দ্র। সিবিআই-এর ওই চার্জশিটের সূত্র ধরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের আগেই এক বার ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এনসি সাংসদ ফারুককে। যদিও ফারুক নিজে বা ইডির পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

কয়েক দিন আগেই মুক্তি পেয়েছেন জম্মু কাশ্মীরের আর এক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। মুক্তির পরেই তাঁরা ফের একজোট হয়ে ‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকর ডিক্লেয়ারেশন’ গঠন করেছেন। গত বছরের ৫ অগস্টের আগে উপত্যকার নাগরিকদের যে অধিকার ছিল, তা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে তাঁরা এক ছাতার তলায় এসেছেন। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি রাজনৈতিক ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ফারুক আবদুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘ফারুক সাহেবকে ইডি-র পাঠানো এই আচমকা নোটিস প্রমাণ করে দেয়, জম্মু কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করায় ভারত সরকার কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছে৷ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার সম্মিলিত লড়াইকে স্তিমিত করা যাবে না৷’