জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যোগ্যতাকে সম্মান নাকি শিবিরকে গুরুত্ব?

92

নিউজ ব্যুরো : ২০২০ সালে পুরস্কারটা হল না, ঠিক আছে। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকাটা যদি ঘোষণা হয়ে যেত, তফাত্টা বুঝতে পারতেন। বলছিলেন যিনি, নামটা প্রকাশ করতে চান না। সেটাই স্বাভাবিক। তবে শুনতে শুনতে আরও এক অন্দরের কথা মনে পড়ছিল খুব। এখানেও অবশ্য নাম প্রকাশ করা যাবে না। নিষেধ আছে। তবে এসব নাম যদি ঘুণাক্ষরেও প্রকাশিত হয় কখনও, বাজি ধরে বলতে পারি, বিনোদন সাম্রাজ্যের ভগবান-টগবানের আসনগুলোও থরহরি কেঁপে যাবে।

তো সে যাই হোক, পুরনো যে কথাটা বলছিলাম আর কি। সেই নামে আপত্তিওলা মানুষটি সে সময় বাংলার এক বিখ্যাত বিনোদন সংস্থার হিসাবরক্ষক বিভাগের প্রধান। গানের জগতে তাঁদের নামডাক যথেষ্ট। অবশ্যই প্রোডাকশনে। সিনেমা ক্ষেত্রেও হাত পাকাচ্ছিলেন তাঁরা ভালোই। সে সময়ে বাংলার এক ঈশ্বরসম পরিচালক সেই সংস্থার সঙ্গে ছবির বাজেট তৈরি করছিলেন। তাঁর ঘরানা অনুযায়ী, বাংলা ছবিতে একটি জনপ্রিয় সর্বভারতীয় মুখ রাখবেনই। তাই সেই খরচাপাতি ধরেই তৈরি হচ্ছিল বাজেট। হিসাবরক্ষক মানুষটি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন একটি কলাম দেখে। সে কলামেই প্রোডাকশন খরচের মূল অঙ্কের প্রায় অর্ধেক বরাদ্দ। কলামটির শিরোনাম ছিল অ্যাওয়ার্ড! নাহ। এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনার এখানেই ইতি। তবে গন্ধটা কিন্তু রয়ে যায়। কোথাও না কোথাও। আগে সে গন্ধ পুরোটাই রুপোলি ছিল। এখন আবার তার সঙ্গে এসে মিশেছে রাজনীতি।

- Advertisement -

২০১৯ সালের সেরা হিন্দি ছবির নাম হতে পারে ছিছোরে। কারণ? ২০২০-তে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু! যে ঘটনার বিহারি তাস খেলে আবারও গদিতে গেরুয়াগন্ধী নীতিশ কুমার! বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। যদি রীতি অনুযায়ী, ২০২০-র মার্চ নাগাদই তার আগের বছরের সেরা ছবির জাতীয় তালিকাটি ঘোষণা হয়ে যেত, সুশান্তের ছবিটা কল্কে পেত তো? সুশান্ত যে তখনও প্রবলভাবে বেঁচে। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী, রূপা গাঙ্গুলি এবং কঙ্গনা রানাওয়াত মিলে সুশান্ত সিং রাজপুতকে যেভাবে গেরুয়া ইস্যু বানিয়ে ফেললেন, তা ধুয়ে এখনও জল খাচ্ছে পদ্মশিবির। সে কারণেই সুশান্ত মামলা শেষ হয়ে হইল না শেষ।

সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রতিভা গুরুত্ব পাচ্ছে না। গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনীতি। ঠিক সে কারণেই ছিছোরের ভাগ্যে যা জুটতে পারে, বসু পরিবার-এর কপালে তা জোটে না। বরুণবাবুর বন্ধুর মতো ছবিও ব্রাত্য থেকে যায় জাতীয় পুরস্কারের তালিকায়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় না হয় চলেই গেছেন! তাতে রাজনৈতিক তাস খেলার সুবিধে তো বিশেষ হল না! তাহলে তাঁর আর অবদানটা কী রইল! স্বনামধন্য প্রতিভা, বাংলার অন্যতম  চিরকালীন শিকড়কে ২০১৯ থেকে দিব্যি সরিয়ে রাখা গেল। সরিয়ে রাখা গেল কণ্ঠ, গোত্রর মতো দু-দুটি বাংলা কাঁপিয়ে দেওয়া ব্লকবাস্টারকেও। শুধু বক্স অফিস নয়। সমালোচকদের কাছেও শিবপ্রসাদ-নন্দিতার এই দুটি নির্মাণ সাদরে গৃহীত।

দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন, আহা রে, শংকর মুদি, মহালয়ার মতো ছবিও কিন্তু মৌলিক এবং ব্যতিক্রমী চিত্রনাট্যের ছিল। অন্তত সমালোচকদের তেমনই মতামত। দর্শকরা অবধি সেই মতে প্রতিষ্ঠিত। তবে গেরুয়া সুতোয় টান পড়ার মতো কোনও শর্তই এ সব ছবিতে নেই যে। না আছে নেতাজি কার্ড, না আছেন আধুনিক সময়ে ইন্ডাস্ট্রি হয়ে ওঠার মতো কোনও ফ্যাক্টর। পদ্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ আর পদ্মবনে পরোক্ষ যাতায়াতের মতো একটা না একটা ইশ্যু তো লাগবেই, না কি! গুমনামী এবং জ্যেষ্ঠপুত্র বোধহয় ২০১৯-এর একমাত্র সেরা ফসল নয়। তবে বাকিরা লড়ে নেওয়ার জমিটুকুও পেয়েছিল কি! রুপোলি দেবতা জানেন হয়তো।

সে দেবতাই তো ভোঁশলে, মণিকর্নিকা, কেশরীদের জাতীয়তাবাদী তাসে প্রসন্ন। ষন্ড কি আঁখ, বদলার অনবদ্য তাপসীর চেয়ে মণিকর্নিকা, পাঙ্গার কঙ্গনায় প্রসন্ন। আসলে যে প্রতিভা পদ্মপাপড়ির মতো বিকশিত হয়, সেই প্রতিভার প্রতি রুপোলি দেবতার প্রসন্নতাটা তো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, তাই না!