২ জেলা পুলিশের ঠেলাঠেলিতে জাতীয় সড়ক আটকে বিক্ষোভ, ফায়দা হল শ্রমিকদের

340

ফাঁসিদেওয়া ও চোপড়া, ১৪ মেঃ চোপড়া থানার সোনাপুর এবং ফাঁসিদেওয়া থানার অন্তর্গত বিধানগরের মধ্যবর্তী আন্তঃজেলা সীমান্ত তথা মহানন্দা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ বিহারের কিষানগঞ্জের ইটভাটা থেকে পায়ে হেঁটে আসা প্রায় ১৫০ জন পরিযায়ী শ্রমিক প্রশাসনিক সহযোগিতার দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন। অভিযোগ, বিহারের প্রশাসন কোনও সহযোগিতা করেনি। অন্যদিকে, কোচবিহারের বাসিন্দা ওই সকল পরিযায়ী শ্রমিক বিধাননগর ঢুকতে গেলে দার্জিলিং জেলা পুলিশের বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্র। এমনকি, লাঠি চার্জ করার ধমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যপক উত্তেজনা ছড়ায়৷ পাশাপাশি, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ব্যপক যানযটেরও সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশ পরিযায়ী শ্রমিকদের দার্জিলিং জেলায় পাঠিয়ে, দায় সারতে চাইছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। যদিও, দার্জিলিং জেলা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। তবে, করোনা সংক্রমিত বিহার রাজ্য থেকে এরাজ্যে কোনও স্ক্রিনিং ছাড়াই, চোপড়া সহ একাধিক থানা পেরিয়ে শ্রমিকরা চলে এলেও, পুলিশের কোনও ভূমিকা কেন লক্ষ্য করা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এদিন শ্রমিকরা ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে
কোচবিহারের দিকে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলে ওই শ্রমিকদের মধ্যে আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, পুলিশ লাঠি চার্জ করার ভয় দেখিয়েছেন। বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের তরফে হেঁটে জেলায় আসা যাবে না বলে জানানো হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। যদিও, ঘটনায় কোনও রকমের লাঠি চার্জের ঘটনা কিন্তু ঘটেনি বলে খবর৷ এদিকে, প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে বিক্ষোভে ফেঁটে পড়েন ওই শ্রমিকের দল৷ শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে, ঘোষপুকুরগামী এবং সোনাপুরগামী সকল যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়। খবর পেয়ে চোপড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। পরে, পুলিশের তরফে ওই সকল শ্রমিকদের প্রশাসনিক উদ্যোগে বাসে করে বাড়ি পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলে, শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। ধীরে ধীরে যান চলাচল এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রথমাবস্থায় চোপড়া এবং বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের এলাকার মধ্যে শ্রমিকদের কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তাঁদের বিধাননগর কুরবান আলী হাই স্কুলে রাখার কথা থাকলেও, পরে তাঁদের চোপড়ার একটি স্কুলে রাখা হয়েছে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়।

- Advertisement -

অসমর্থিত সূত্রের খবর, উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে যাতায়াত করলেও, শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করা হচ্ছে না। এদিকে, এভাবে প্রতিদিন শ্রমিক আসতে থাকায়, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর এবং ঘোষপুকুর এলাকার শেল্টার হোমগুলি ভরে গিয়েছে, চাপ বেড়েছে দার্জিলিং জেলা পুলিশের। এভাবেই উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশের নিজেদের চাপ কমাতে এমন করছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। যদিও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত। তিনি জানিয়েছেন, স্ক্রিনিং ছাড়াই সংক্রমিত রাজ্য থেকে শ্রমিকরা এভাবে এলে আশঙ্কা বাড়তে পারে। তবে, কাউকে আসতেই দেওয়া হবে না, এধরণের কথা বলা হয়নি। অন্যদিকে, পুলিশ আধিকারিকদের অনেকের মতে, এভাবে জাতীয় সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও অনেক বেশী। চোপড়া থানার আইসি বিনোদ গজমের জানান, সোনাপুরে প্রায় ১৫০ শ্রমিক আটকে পড়েছে।এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।