পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ

48

ময়নাগুড়ি: পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে রানীরহাট মোড়ে ফের ময়নাগুড়ি-ধূপগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন চূড়াভাণ্ডারের বর্মনপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। যার জেরে বুধবার ওই জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ময়নাগুড়ি থানার পুলিশের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ ওঠে। ময়নাগুড়ি থানার আইসি ভূষণ ছেত্রী বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কেস চালু হয়েছে। সেটা ওনাদের জানা ছিল না। তাই আবার অবরোধ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ২৯ মার্চ বিকেলে ময়নাগুড়ি ব্লকের চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বর্মনপাড়া এলাকার দশমী ব্যাপারী নামে এক গৃহবধূকে প্রতিবেশী মানিক রায় ও প্রদীপ রায় কুপ্রস্তাব দেয়। সেই কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে তাঁরা ওই মহিলাকে বেধড়ক মারধর করে। সেদিন ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে দশমী ব্যাপারীর চিকিৎসা হয়। ৩০ মার্চ তিনি ময়নাগুড়ি থানায় ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৩১ মার্চ বিকেল পর্যন্ত ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ এফআইআর কপি রিসিভ না করায় এবং কোনওরকম পদক্ষেপ না নেওয়ায় সেদিন ওই এলাকার মহিলারা রানীরহাট মোড়ের কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিল। যার জেরে সেদিনই ময়নাগুড়ি থানা এফআইআর কপি রিসিভ করে কেস চালু করে পুলিশ।

- Advertisement -

সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পর এদিন সকাল ১১টায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বর্মন পাড়ার বাসিন্দারা রানীরহাট মোড়ের কাছে ময়নাগুড়ি-ধূপগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। অবরোধের খবর পেয়ে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। অবরোধকারীদের দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পর পুলিশি প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ ওঠে। দীর্ঘ অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের উভয় দিকে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে। নিত্য যাত্রীসহ পথচলতি সকলেই এদিন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আটকে পড়েন।

গোপাল রায় নামে এক গাড়ি চালক বলেন, ‘প্রাইভেট গাড়িতে রোগী নিয়ে যাচ্ছি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে জামে আটকে আছি। কিছুতেই বের হতে পারছি না।’ অবরোধ ওঠার পর পুলিশি সক্রিয়তায় কিছুক্ষণের মধ্যে যানজট স্বাভাবিক হয়। প্রহৃত গৃহবধূ দশমী ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীরা পথ অবরোধ করেছি। কারণ অভিযুক্তরা বাড়িতেই থাকছে তারপরও পুলিশ অভিযুক্তদের ধরছে না। ফোনে অভিযুক্তদের সন্ধান পুলিশকে দিলে পুলিশ আমাকেই অভিযুক্তদের ধরতে বলেন।’ ময়নাগুড়ি থানার আইসি ভূষণ ছেত্রী জানান, সেরকম কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।