দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গাজোলে রাস্তা বাঁশ দিয়ে ঘিরল জনতা

গৌতম দাস, গাজোল : জাতীয় সড়কের অবস্থা আগে থেকে বেহাল তো ছিলই, বৃষ্টি হতেই সেই রাস্তায় তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। জাতীয় সড়কের অবস্থা এতটাই বিপজ্জনক যে, বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ দিয়ে ঘিরে একটি লেনে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। রাস্তার এই অবস্থার জন্য এক দিকে যেমন বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, তেমনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

গাজোলের বুক চিরে চলে গিয়েছে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। গাজোল রাঙাভিটা মোড় থেকে শুরু হয়ে এই সড়ক চলে গিয়েছে হিলি পর্যন্ত। ২৪ ঘণ্টা ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল করে। গাজোল শহর এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও এটি। এই রাস্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছোট, বড় নানা ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। রয়েছে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক। বামনগোলা মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত ডিভাইডার বসিয়ে এই রাস্তাটিকে ডবল লেন করা হয়েছে। কিন্তু বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জন্য গাজোল থেকে হিলি যাওয়ার লেনটির বেশ কিছু অংশ বছরের বেশিরভাগ সময় জলমগ্ন হয়ে থাকে।

- Advertisement -

আর বৃষ্টি শুরু হতেই এই লেনের একটা বিরাট অংশ চলে গিয়েছে জলের তলায়। বিডিও অফিসের উলটো দিক থেকে শুরু করে রোড ওভারব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা বেহাল। কয়েকদিন ধরেই এই রাস্তার কয়েকশো মিটার এলাকা জলের তলায় থাকার জন্য রাস্তার পিচ এবং পাথর উঠে গিয়েছে। তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বিশেষ করে করলাভিটা এলাকায় এই রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে উঠেছে। আশঙ্কা, যে কোনও সময় উলটে যেতে পারে যে কোনও যানবাহন। দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগী হয়ে এই রাস্তার কিছু অংশ বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বিনয়চন্দ্র প্রামাণিক, কৌশিক সাহা সহ অন্যরা বলেন, সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় আমাদের। এই বুঝি দুর্ঘটনা ঘটে গেল। রাতের বেলা এই সম্ভাবনাটা আরও অনেকটা বেড়ে যায়। টোটোচালক আইনুল হক জানালেন, চরম ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছিল তাদের। ইতিমধ্যে কয়েকটি টোটো এখানে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। যার ফলে ওই লেন দিয়ে যোতে ভয় পান তাঁরা। বর্তমানে রাস্তার অবস্থা যান চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যার ফলে দুর্ঘটনা রুখতে বাধ্য হয়ে বাঁশ দিয়ে এই লেনের একটা বড় অংশ ঘিরে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

তাঁরা জানালেন, একদিকে বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যদিকে জাতীয় সড়ক কর্তপক্ষের উদাসীনতা এই দুইয়ে জেরে জাতীয় সড়কে তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। কিন্তু নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার কিংবা জাতীয় সড়ক মেরামত করার দিকে নজর নেই কারোরই। সবাই চোখ বন্ধ করে আছে। যার ফলে ভগবান ভরসায় চলতে হয় তাঁদেরও। অবিলম্বে সমস্যার সমাধান না হলে স্থানীয় বাসিন্দার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।