চালু হওয়ার আগেই জাতীয় সড়কে ধস

শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি : রাস্তা চালু হওয়ার আগেই রেইনকাটের জেরে জাতীয় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ধূপগুড়ি থেকে শিলিগুড়িগামী ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের জলঢাকা এলাকায় ধসের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জাতীয় সড়কের সম্প্রসারিত অংশ এখনও চালু না হলেও অনেক গাড়ি যানজট এড়াতে ইতিমধ্যেই ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। যেভাবে সড়কের পাশের অংশ ক্রমশই ধসে পড়ছে, তাতে অল্প চাপে রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

কয়েক বছর আগে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ করে ফোর লেন করার কাজ শুরু হয়। পুরানো সড়ক মেরামত করা হয় এবং একইভাবে সড়ক সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে নতুন সড়ক চালু হওয়ার আগেই বড় ধরনের ধস নেমেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, বালি দিয়ে উঁচু করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃষ্টির জলের ধাক্কায় বালি সরে গিয়ে রাস্তা ধসে পড়ছে। তবে ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া অংশগুলি মেরামতের কাজও শুরু করেছে ঠিকাদার সংস্থা। তবে বৃষ্টির জন্য কাজও ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না বলে পালটা দাবি করেছেন ওই সংস্থার আধিকারিকরা।

- Advertisement -

এদিকে, জলঢাকা এলাকায় রাস্তা বসে যাওয়া ছাড়াও রেইনকাটের জেরে একাধিক জায়গায় বালি ও মাটি সরে গিয়েছে বলেও অভিযোগ। সব জায়গাগুলি ফের মেরামত করতে বেশ সময় লেগে যাচ্ছে। স্বভাবতই রাস্তা চালু হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। জলঢাকা এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, বালি দিয়ে উঁচু করায় এবং রাস্তার পাশে গার্ডওয়াল না থাকায় জলের ধাক্কায় রাস্তার অংশগুলি ধসে পড়ছে। স্থানীয়রা ওই জায়গাগুলিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি দ্রুত মেরামত করে সড়ক চালু করা গেলে একাধারে যেমন যানজট মোকাবিলা করা সম্ভব, তেমনই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব বলে ট্রাফিক গার্ডের কর্তারা আশা করছেন।

ধূপগুড়ি ঝুমুর এলাকা থেকে শিলিগুড়ির পথে অনেক জায়গায় রেইনকাটে রাস্তার পাশ থেকে বালি, মাটি সরে গিয়েছে। বর্ষার শুরুর দিকে রেইনকাটে ধসে যাওয়া শুরু হয়েছিল। এর আগেও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ওই অংশগুলি মেরামত করে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে ভারী বৃষ্টির জেরে এখনও মেরামতের কাজ তেমন গতি পায়নি বলেও জানিয়েছেন নির্মীয়মাণ ঠিকাদার সংস্থার আধিকারিকরা। তবে জলঢাকা এলাকায় রাস্তার বসে যাওয়া অংশের কাজও দ্রুত শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার অভিজিৎ পাল। তিনি বলেন, রেইনকাটে ধসে যাওয়া জায়গা মেরামত শুরু করা হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টির জন্যে ঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। এদিকে, ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর সঞ্জীব শর্মা বলেন, রেইনকাটের জন্য রাস্তার অংশ যেখানে ধসে গিয়েছে, সেই জায়গাগুলি মেরামত করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় মেরামত শুরু হয়েছে।